default-image

ঝালকাঠির রাজাপুরে দুটি ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য বিষখালী নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে নদীর তীরবর্তী চল্লিশকাহনিয়া, পালট ও বাদুড়তলা গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে।

রাজাপুরের বিষখালী নদীর তীরে বড়ইয়া ব্রিকস ও উত্তমপুর ব্রিকসের অবস্থান। বছরের ছয় মাস সেখানে ইট উৎপাদিত হয়। বড়ইয়া ব্রিকসের মালিকদের মধ্যে রয়েছেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দুটি ভাটায় ইট তৈরির জন্য বিষখালী নদীর তীরের মাটি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া খাসজমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করা হয়। চল্লিশকাহনিয়া, বাদুড়তলা ও বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামের অন্তত ১০টি স্থান থেকে ইটভাটার জন্য মাটি কাটা হয়েছে। প্রতি শতাংশ জমি পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ওই জমি থেকে ৮–১০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বিষখালী নদীর তীরে চল্লিশকাহনিয়া লঞ্চঘাট এলাকা, বাদুড়তলা ও বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা মাটি কেটে ট্রলারে ভরছেন। নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

মাটিকাটার শ্রমিক রমজান আলী বলেন, তাঁরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে মাটি কাটেন। ভাটামালিকদের নির্দেশে নদীর পাড়ের মাটি কেটে মজুত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি জমির মালিক বলেন, নদীর তীরের জমি সব সময় ভাঙনের আশঙ্কা থাকে। কিছু টাকা পাওয়ার আশায় জমির মাটি বিক্রি করেছেন। আগামী বর্ষায় পলি পড়ে ওই স্থান আবার ভরে যাবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় ব্যবসায়ী ফেরদৌস হাওলাদার বলেন, রাজাপুরে বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতিমধ্যে মঠবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুড়তলা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনের কয়েকটি কক্ষ বিলীন হয়ে গেছে। যেকোনো সময় হারিয়ে যাবে পুরো স্কুল এবং স্কুলের পাশে থাকা মসজিদ। এ ছাড়া বাদুড়তলা-পুখরীজানা, মানকি সুন্দর সড়ক ও বাদুড়তলা-চল্লিশকাহনিয়া সড়কটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ইটের ভাটায় নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিলে ভাঙন আরও ত্বরান্বিত হবে।

পালট গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, নদীর তীর থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে আশপাশের জমি ও স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজাপুর বড়ইয়া ব্রিকসের মালিক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মাটি ছাড়া ইট উৎপাদন সম্ভব নয়। আমরা ক্রয় করা জমি থেকে মাটি কেটে ইটের ভাটায় ব্যবহার করছি। তবে ঠিক নদীর পাড় থেকে মাটি কাটা হয় না। তারপরও যদি নদীর পাড়ের মাটি কাটা হয়, তবে উপজেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।’

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বলেন, বিষখালী নদীর তীর থেকে মাটি কাটায় সম্প্রতি উত্তমপুর ব্রিকসকে জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও নদীর মাটিকাটা বন্ধ না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভাটা বন্ধসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন