বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁর এজাহারে বলেছেন, মাসুদ রানা নিজে তাঁর গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়েছেন। আর অন্য আসামিরা সিসি ক্যামেরা ভেঙে কর্মচারীকে মারধর করেছেন। তিন লাখ টাকা লুট করেছেন। এ ছাড়া তিনটি ইডিএফ মেশিন নিয়ে গেছেন। এর প্রতিটির দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর আগুনে ৪০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার, ১০ কিলোমিটার আরজি-৬ তার, ১০টি অ্যাম মেশিনসহ আসবাব পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে আরও ১০ লাখ টাকা। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিভিয়েছে।

নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনী সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমরা তোমাদের বিড়াল বানিয়ে দেব। ভোটের পরদিন তোমার আকাশে কোনো সূর্য উঠবে না।’ ঠিক ১২ নভেম্বর রাতেই আমাদের নামে মামলাটি করা হলো। এটা পূর্বপরিকল্পিত।
মাসুদ রানা চৌধুরী, অগ্নিসংযোগ মামলার প্রধান আসামি

তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে উল্টো কথা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস ক্ষয়ক্ষতির হিসাব লিপিবদ্ধ করে থাকে। স্টোরে আগুনে ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের তানোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম প্রথম আলো বলেন, ‘একটু আগুন ধরেছিল। আমরা যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ “সামথিং”। এটা এস্টিমেট করার মতো নয়।’

মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই নানা রকম হুমকি-ধমকি দেওয়া চলছিল। একটি নির্বাচনী সভায় এই উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমরা তোমাদের বিড়াল বানিয়ে দেব। ভোটের পরদিন ১২ নভেম্বর আকাশে নতুন সূর্য উঠবে কিন্তু তোমার আকাশে কোনো সূর্য উঠবে না।’ ঠিক ১২ নভেম্বর রাতেই তাঁদের নামে মামলাটি করা হলো। এটা পূর্বপরিকল্পিত।

মাসুদ রানা বলেন, ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিজের কেন্দ্রেই নৌকা হেরেছে। তাঁরা লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না। এ লজ্জা ঢাকতে এ রকম একটা মিথ্যা মামলা করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ বলেন, ‘মামলায় ঘটনার সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিট বলা হয়েছে। সেদিন আমি সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়েই ছিলাম।’

বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পংকজ চন্দ্র দেবনাথও। তিনি বলেন, ‘ফল ঘোষণার দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আমি খাদেমুন নবী চৌধুরীকে দেখেছি। তাঁকে আমি চিনি। তাঁর ছেলের চেহারা চিনি না। তবে আমার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনিও বাবার সঙ্গেই ছিলেন। সাড়ে ১১টায় ফল ঘোষণার পর তাঁরা ফিরেছেন।’ তাহলে মামলা কেন জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, অভিযোগ যে কেউ করতেই পারে। পুলিশ তদন্ত করবে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, বিষয়টা তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে। সে অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী লুৎফর হায়দার রশীদ ময়নার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন