বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার মিঠুন আলীর প্রকৃত বয়স ২৮ ও তিনি বিবাহিত। গ্রামের বাড়ি নাটোর সদরের আগদিঘায়। মিঠুনের একটি ছেলে আছে। অপর দিকে নিহত জয়নব বেগমের বয়স ৪০। স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। মিঠুন ও জয়নব দুজনেই ইটভাটায় কাজ করতেন। স্বামী-স্ত্রী সেজে চিকিৎসার কথা বলে তাঁরা রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর মোড়ের আবাসিক হোটেল ড্রিম হ্যাভেনে ওঠেন।

হোটেলটির ব্যবস্থাপক সামিউল হাসান বলেন, চিকিৎসা করতে শহরে আসার কথা জানিয়ে ওই দুজন গত রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে হোটেলে উঠেছিলেন। এক হাজার টাকায় তাঁরা একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ ভাড়া নেন। বেলা দেড়টার দিকে নারীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি বের হয়ে যান। ইফতারের পর হোটেলের কক্ষগুলো চেক করার সময় দেখা যায়, ৪০৩ নম্বর কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ, কিন্তু ভেতরে এসি চলছে।

সামিউল হাসান বলেন, অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে রাত ৯টার দিকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিছানায় ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়।

নারী পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ জানতে পারে, বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সহযোগিতায় রাজপাড়া থানা-পুলিশ ওই নারীর প্রকৃত নাম–ঠিকানা শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই তছলেম প্রামাণিক (৪৫) বাদী হয়ে নগরের রাজপাড়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির নাম–ঠিকানাও শনাক্ত করে। পরে গত সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাটোরের আগদিঘা গ্রাম থেকে মিঠুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে মিঠুন জানান, জয়নব বেগমের সঙ্গে তার তিন মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত দুই সপ্তাহ ধরে জয়নব তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী জয়নবকে হোটেলে আনার পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর কক্ষ থেকে পালিয়ে যান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন