default-image

শাফি উদ্দিন (২৫) পেশায় রাজমিস্ত্রি। মাহাবুবা সিদ্দিকা (২২) পড়তেন একটি মাদ্রাসায়। পারিবারিক আয়োজনে ৯ দিন আগে তাঁদের বিয়ে হয়। আজ রোববার বিকেলে স্বামীর বাড়ির বসতঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় মাহাবুবার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, আটক করা হয়েছে স্বামী শাফি উদ্দিনকে।

হাত থেকে মেহেদির রং মুছে যাওয়ার আগেই নববধূর মৃত্যুর এই ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ফাঁড়ি রঘুনাথপুর গ্রামে।

পুলিশ ও দুই পরিবারের সদস্যরা জানান, শাফি উদ্দিনের বাবার নাম আলকাছ মিয়া। মাহাবুবা একই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আবদুল মজিদের মেয়ে। মজিদের পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে। মাহাবুবা তাঁর দ্বিতীয় সন্তান। শাফি উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানোর পর ৩ অক্টোবর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামীর বাড়ির যৌতুকের দাবি ছিল না। আজ বেলা দুইটার দিকে মাহাবুবার ঘরের দরজা ভেতর দিয়ে আটকানো ছিল। ডাকাডাকির পর না খোলায় দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

মাহাবুবার বাবা আবদুল মজিদ বলেন, মেয়েকে দেখতে শনিবার তাঁর ছোট মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন। ফিরে এসে ভালোই বলেছিলেন। মেয়েও তাঁকে কোনো ঝামেলার কথা বলেননি। এই অবস্থায় মেয়ে কেন মারা গেলেন, বিষয়টি তাঁর কাছে অস্পষ্ট।

পুলিশি হেফাজতে থাকা শাফি উদ্দিন বলেন, ‘স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। কোনো কষ্ট বা অভিমানের কথা জানায়নি। আজ সকালে স্ত্রীর হাতে তৈরি করা নাশতা খেয়ে কাজে এসেছি। আসার আগে মাছ কিনে দিয়ে এসেছি। দেখলাম মাছ কেটে ফ্রিজে রাখছে। এখন কেন স্ত্রী আমার আত্মহত্যা করতে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মতিউজ্জামান বলেন, দাম্পত্য অশান্তি বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে বিবাদের বিষয়ে দুই পরিবারের কারও কাছ থেকে কিছু জানা যায়নি। মাহাবুবার গলা ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্তব্য পড়ুন 0