সরেজমিন উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের হাওরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতেই এ মৌসুমে কৃষকেরা বোরো ধান চাষ করেছেন। তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ ধানের ছড়ায় পরিমাণমতো ধান নেই।

উপজেলার ইকরাম গ্রামের আবদুল বাছির বলেন, এ এলাকার চাষিরা সবাই বাজার থেকে হাইব্রিড বীজ ক্রয় করে ব্যবহার করেছেন। চাষাবাদের পরই বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ বোরো ধানগাছ দেখা যায়। যখন ধানের গোছায় ধান থাকার কথা, ঠিক তখন চাষিরা দেখতে পান ছড়ার অধিকাংশ ধানে কোনো আঁশ নেই। এসব চারায় আর ধান গজানোর কোনো সম্ভাবনাও নেই। এ ছাড়া হাওরে বছরে একবারই ধানের চাষ হয়। এখন গরুকে এ ধানের ছড়া খাওয়ানো ছাড়া উপায় নেই।

পৈলারকান্দি গ্রামের কৃষক হিরা মিয়া বলেন, ‘প্রতিবছর কার্তিক মাসে চাষিরা বাজার থেকে বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ ক্রয় করে থাকেন। পরে চারা রোপণ করা হয় মাঘ মাসের দিকে। জমিতে প্রয়োজনীয় সার, পানিসহ সব ধরনের উপকরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধান বের হওয়ার সময় দেখা গেছে, জমির অধিকাংশ ধানই বের হয়নি, আবার কিছুটা বের হয়ে ভেঙে গেছে। এ অবস্থা দেখে আমাদের মাথায় হাত। অনেক কৃষক খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।’

মক্রমপুর গ্রামের কৃষক নবাব আলী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি মানুষের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন ধান নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। যে জমিতে ধান হতো ২২-২৫ মণ, এখন হবে ৮-১০ মণ। এ অবস্থায় কী করবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না।

সুজাতপুর হাওরের সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান বলেন, ৫টি ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২ হাজার একর জমিতে নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। জমির অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বীজ ডিলার এ বছর পুরোনো বীজ সরবরাহ করেছেন কৃষকদের।

বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে মনে হয়েছে, শুধু ত্রুটিপূর্ণ বীজ নয়, খাদ্যসংকট (জিংক) ও আবহাওয়ার কারণেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি চাষিরা পুরোনো বীজ ক্রয় করে থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে। পুরো বিষয়টি গবেষণার প্রয়োজন। বিষয়টি জেলা নাগুড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এ ক্ষতির বিষয়ে একটি ধারণাপত্র দিয়েছেন বলে জানান ওই কৃষি কর্মকর্তা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন