default-image

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে হাঙ্গামা করে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পণ্ডের অভিযোগ এনে বগুড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ মানববন্ধন করেছেন। রোববার শহরের সাতমাথায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে শিগগির যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রেজাউল করিম, আনিসুজ্জামান ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাঙ্গামার অভিযোগ এনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

গতকাল শনিবার বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে। পরে ইউএনও মো. আজিজুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২১ থেকে ৩০ নভেম্বর সদর উপজেলায় প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম হয়। কমিটির সভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ আমিনুল ইসলামকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে কমিটির ব্যাপারে আপত্তি তোলেন। আপত্তির শর্তেও ৩৮২ জনের মধ্যে ৯৮ জনকে ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণা করা হয়। ১১ জনের দ্বিধাবিভক্ত তালিকা করা হয়। পরে বাদ পড়া ব্যক্তিরা কমিটির বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) নানা অভিযোগ করেন। এরপর ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত গেজেটভুক্ত ৯২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্থগিত তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জামুকা থেকে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আবদুল কাদের এবং সদস্যসচিব সদরের ইউএনও আজিজুর রহমান। কমিটিতে বগুড়া সদরের সাংসদ গোলাম মো. সিরাজের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সদরুল আনাম। কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গতকাল শনিবার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্যপ্রমাণসহ ৯২ জনকে হাজির হতে বলে। কিন্তু যাচাই-বাছাই চলার সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউলের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে হাঙ্গামা করেন। এ সময় তাঁরা কমিটির সভাপতি কাদের এবং সদস্য সদরুল আনামকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের হট্টগোল দেখা দিলে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন ইউএনও।

রেজাউল করিম বলেন, ‘গত নভেম্বরে একটি কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। নতুন করে আবার একটি কমিটি গঠন করে ৯২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অথচ এই কমিটির সভাপতি এবং সাংসদের প্রতিনিধি সদরুল আনাম অমুক্তিযোদ্ধা। বিতর্কিত ব্যক্তি, অমুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়াদের নিয়ে যাচাই-বাছাই করায় এ কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মসম্মানের হানি হয়েছে। এ কারণে আপত্তি তুলে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি।’

আবদুল কাদের বলেন, আগের কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে জামুকা ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। তিনি অমুক্তিযোদ্ধা। তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রেজাউল করিম শনিবার যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন। এতে যাচাই-বাছাইয়ে অংশ নিতে আসা অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন, কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। তাঁরা সাক্ষ্য দিতে না পেরে হতাশ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন