আবদুল কুদ্দুছ বলেন, তাঁর ছেলের নাম ছিল মানিক মিয়া। তাঁর ঘরে চার কন্যাসন্তান। তাদের মধ্যে দুজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। তিন বছর আগে ছেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান। এখন নিজের স্ত্রী, ছেলের বউ আর নাতনিদের দেখভাল করতে হয় তাঁকে।

কীভাবে সংসারের খরচ চালান জানতে চাইলে কুদ্দুছ বলেন, তাঁর ৩০ শতক দুই ফসলি জমি আছে। চাষাবাদ করার পর ফলন যদি ভালো হয়, তাহলে চার-পাঁচ মাস ঘরের ভাত খেতে পারেন। বাজার থেকে তরিতরকারি যা কেনেন, তা দিয়ে তিন বেলা খাবার খান। না পারলে পাটশাক দিয়ে খেতে হয়।

সরকারের দেওয়া ১০ টাকা কেজির চাল ক্রয়ের কার্ড আছে কুদ্দুছের। ৩০০ টাকা জোগাতে পারলে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারেন। টিসিবির পণ্য ক্রয়ের কার্ড সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই তাঁর। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই নাতনির মধ্যে একজন ভাতা পায়।

কুদ্দুছ বলেন, রমজানের পর ঈদ আসবে। নাতনি ও পুত্রবধূকে নতুন কাপড়চোপড় দিতে হবে। কিন্তু কীভাবে দেবেন, সে চিন্তায় তাঁর দিন কাটছিল। কিন্তু প্রতিবেশী এক প্রবাসীর সৌজন্যে সে চিন্তা দূর হয়েছে। ওই প্রবাসী ব্যক্তি চার নাতনিকে জামা বানানোর নতুন কাপড় দিয়েছেন।

ঈদে নাতনিরা নতুন কাপড় পরবে, তা ভেবেই যেন চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে কুদ্দুছের। তবে নিজের সম্পর্কে বলেন, ‘বাবারে আমরার কী আর নতুন কাপড় পিন্দনের বয়স আছে। সাতজনের সংসার টাইন্যাই আমার কূল থাহে না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন