রুনা সিলেট সদর উপজেলার নলকূট গ্রামের দিনমজুর মোজাম্মেল হোসেন (৩৬) ও মাজেদা বেগমের (২৮) মেয়ে। বন্যার পানি বাড়তে বাড়তে কোমরপানি হলে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোজাম্মেল-মাজেদা দম্পতি তাঁদের ১৩ বছরের ছেলে সজীব আহমেদ ও দেড় বছরের মেয়ে রুনাকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসেন। তিনতলা ভবনবিশিষ্ট এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়টি কক্ষে গাদাগাদি করে থাকছে অন্তত ৬০০ বানভাসি মানুষ। এখানে বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতির সংকটে সন্ধ্যার পর থেকে অধিকাংশ কক্ষই অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে।

মোজাম্মেল ও মাজেদা বলেন, গত বৃহস্পতিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পর তাঁরা কেউই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাননি। কিছু পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের দেওয়া সামান্য চাল-ডাল তাঁরা পেয়েছেন। এর বাইরে স্থানীয় মানুষের দেওয়া কিছু খাবার খেয়েই কোনোমতে ক্ষুধা মেটাচ্ছেন তাঁরা। বড়রা আধপেটা খেয়ে টিকে থাকলেও শিশুদের উপযোগী কোনো খাবার না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে।

মাজেদা বলেন, তাঁর ছেলে সজীব এ স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। পানিতে ভিজে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার পর ছেলের জ্বর আসে। ওষুধ খেয়ে এখন একটু ভালো আছে। বন্যার পানিতে সজীবের খাতা-বই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। স্কুলে যেতে হলে সজীবের জন্য আবার নতুনভাবে বইপত্র কিনতে হবে। আসার পর থেকে তাঁরা এক কাপড়ে আছেন। সুবিধা না থাকায় গোসলও করতে পারেননি। তিনি বলেন, বাড়িতে থাকলে খাওয়া নিয়ে ছেলের নানা আবদার থাকলেও এখানে এসে সে শান্ত হয়ে গেছে। যা দেওয়া হচ্ছে, তা–ই খেয়ে নিচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

গতকাল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে পাঠদানের টেবিলে চাদর বিছিয়ে থাকার জায়গা করেছে সজীবের পরিবার। থেকে থেকে কেঁদে উঠছে রুনা। একবার কান্না শুরু করলে তাকে থামানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। কখনো মা, আবার কখনো ভাই তাকে কোলে রেখে থামানোর চেষ্টা করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন