default-image

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আজ শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে তাঁকে ধরা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম আফাজ উদ্দিন (৬০)। তিনি ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনিসহ ওই হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। আর ওই ঘটনায় হওয়া তিনটি মামলায় মোট গ্রেপ্তার হলেন ৩৩ জন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বুড়িমারী মসজিদে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুর নগরের শালবন এলাকার আবু ইউনুছ মোহাম্মদ শহীদুন্নবীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর তাঁর চাচাতো ভাই সাইফুল আলম হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া একই ঘটনায় পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত আরও দুটি মামলা করেছেন।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ওই ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি। আর আফাজ উদ্দিনসহ বাকি ৯ জনের নাম তদন্তে পাওয়া গেছে। এর আগে ২ নভেম্বর বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খাদেম জুবেদ আলীকেও (৬১) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া আরও দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ১০ জনকে আদালতের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ রিমান্ডে নেয়। ৯ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুধু হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি হোসেন আলী ওরফে আবুল হোসেন এখনো রিমান্ডে আছেন। আজ তাঁর রিমান্ডের শেষ দিন। আগামীকাল শনিবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা বলেন, ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠন করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেদিন কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। মিথ্যা অভিযোগে শহীদুন্নবীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে ভিডিওচিত্র দেখে ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0