বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গুলনাহার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরিটা ছেড়ে দেওয়ার পর জীবনটাই এলোমেলো হয়ে যায়। গৃহশিক্ষকতা করে হলেও সন্তানদের সংসারে অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন। এরপরও তাদের সঙ্গে থাকতে পারেননি।

আক্ষেপ করে গুলনাহার বলেন, ‘আমারও তো মা ছিল। কিন্তু তার সঙ্গে আমার ভাইয়েরা এমনটা করেনি।’ একপর্যায়ে ভাগ্যের দোষ দিয়ে কাঁদতে শুরু করেন গুলনাহার।

গোপালগঞ্জের মমতাজ বেগমের (৫৫) দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার ছিল। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে বাবার জমানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। ছোট ছেলে ব্যবসা করেন। মমতাজ বলেন, ‘ছোট ছেলেটা কথা দিয়েছিল প্রয়োজনে রিকশা চালিয়ে আমাকে খাওয়াবে। অথচ সেই ছেলেটা আট বছর আগে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে। মাঝে কয়েকবার এসে দেখে গেছে। কিন্তু এই আট বছরে বড় ছেলেটার দেখা মেলেনি।’

এবারের ঈদে ছেলেদের অপেক্ষায় ছিলেন মমতাজ বেগম। ভেবেছিলেন আনন্দের দিনে অন্তত ছেলেরা এসে দেখে যাবে। মমতাজ বলেন, ‘সকাল, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। ওরা কেউ আসেনি।’

ঢাকার জিঞ্জিরা এলাকার নারগিস বেগমসহ আরও বেশ কয়েকজনের গল্পটাও একই রকম। আক্ষেপ, সুখ, দুঃখ সবই আছে তাতে। পুনর্বাসন কেন্দ্রের হোস্টেল সুপার হাবিবা খন্দকার বলেন, ‘এখানে আশ্রয় নেওয়া প্রত্যেকেই যেন আমার মা। মায়েদের সেবা-যত্নের চেষ্টা করা হলেও সন্তানের জন্য তাঁদের হাহাকার কিছুতেই দূর করা যায় না।’

সদর উপজেলার মণিপুর বিশিয়া-কুড়িবাড়ি এলাকার আবদুল জাহিদ ১৯৮৭ সালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় এই পুনর্বাসন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। পরে ১৯৯৪ সালে তা মণিপুর বিশিয়া-কুড়িবাড়ি এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৫ সালে মাদার তেরেসা কেন্দ্রটির সম্প্রসারিত অংশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে এই কেন্দ্রে ৮৫ জন নারী ও পুরুষ আছেন ৯০ জন। আমৃত্যু তাঁদের জন্য এখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও বিনোদন নিশ্চিত করা হয়। মৃত্যুর পর সমাধিস্থ করা হয় নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন