বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা করোনা হাসপাতাল

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনার করোনা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড।এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।আজ দুপুরে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে।
ছবি: প্রথম আলো

সামান্য বৃষ্টি হলেই খুলনার ১৩০ শয্যাবিশিষ্ট ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করে। গত কয়েক দিনের নিয়মিত বৃষ্টিতে এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলে এলেও তা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার বেলা দুইটার থেকে খুলনায় শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় করোনা হাসপাতালের ইয়েলো জোন (আইসোলেশন ওয়ার্ড)। আজ সরেজমিনে দেখা যায়, ইয়েলো জোন থেকে পানি গড়িয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডেও চলে গেছে। এ সময় যেসব রোগীরা মেঝেতে ছিলেন, তাঁদের নিয়ে টানাহেঁচড়া করে শুকনা স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্বজনেরা।

ইয়েলো জোনে ভর্তি থাকা এক নারীর স্বজন জানান, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাঁরা ওই হাসপাতালে আছেন। একটু বৃষ্টি হলেই মেঝেতে পানি চলে আসে। আর ভারী বৃষ্টি হলে মেঝে পানিতে থইথই করে।

ওই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজনেরা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে গণমাধ্যম বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিছু বলতে গেলেই তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অভিযোগকারীদের রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ না হতেই জোর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ভোগান্তি হলেও কেউ মুখ খুলতে চান না বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইয়েলো জোনে ভর্তি থাকা এক নারীর স্বজন জানান, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাঁরা ওই হাসপাতালে আছেন। একটু বৃষ্টি হলেই মেঝেতে পানি চলে আসে। আর ভারী বৃষ্টি হলে মেঝে পানিতে থইথই করে।

তিনি বলেন, রোগী বেডে থাকলে রোগীর সঙ্গে যাঁরা থাকেন, তাঁদের তো মেঝেতে থাকতে হয়। কাঁথা-বালিশসহ অন্য জিনিসপত্রও মেঝেতে রাখতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলে আর সেগুলো রাখা যায় না। তখন সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোন জায়গা থেকে পানি আসছে, তা কেউ বুঝতে পারেন না। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বালতিতে করে পানি সেচে ফেলেন।

১৪ দিন ধরে ভর্তি থাকা ওই হাসপাতালের আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ভর্তির পর থেকেই তাঁরা এমন পরিস্থিতি দেখছেন। এটা নিয়ে কথা বলতে গেলেই ওয়ার্ড বয়সহ হাসপাতালের অন্যরা রেগে যান। পরে দেখা যায়, তাঁরা রোগীর কাছে ঠিকমতো আসেন না। অক্সিজেন লাগানোসহ অন্যান্য কাজে ইচ্ছা করেই দেরি করেন। এসব কারণে ভোগান্তি হলেও কেউ তেমন কথা বলতে চান না।

আজ বেলা তিনটার দিকে সাংবাদিকেরা ওয়ার্ডের মধ্যে জমে থাকা পানির ছবি ও ভিডিও করতে হাসপাতালের ভেতরে গেলেই নিরাপত্তাকর্মীরা তেড়ে আসেন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই নিরাপত্তাকর্মীদের বচসা শুরু হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের ভাষ্য, অনুমতি ছাড়া ওয়ার্ডের মধ্যে কোনো ছবি ও ভিডিও নেওয়া যাবে না। আর এমন কোনো ছবি নিতে হলে হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি লাগবে।

এসব ব্যাপারে ওই হাসপাতালের মুখপাত্র সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, হাসপাতালের পেছনের দিকে যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানে কোনো গ্লাস নেই। এ কারণে বৃষ্টি হলে সেখান দিয়ে পানি আসে। তবে এই এক জায়গা দিয়ে এত পানি আসা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বেশ বিরক্ত হন। তিনি বলেন, ‘আমরা যা দেখেছি, সেটাই বললাম। অন্য কেউ কিছু বলে থাকলে তা অসমর্থিত সূত্র।’