বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দূরের গ্রাম শেখপুরা থেকে আসা ওঁরাওদের সাংস্কৃতিক দলের প্রধান সাবেক ইউপি সদস্য খিরোতী বারো প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃষ্টির করমা বা কারাম পরবের নাচের মজাই আলদা। বৃষ্টির জল গায়ে মেখে নাচতে পেরে আমার কী যে আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না। বৃষ্টি ছাড়া কারাম জমে না।’

বৃষ্টি যেমন সাংস্কৃতিক দলগুলোকে মাঠ থেকে হটাতে পারেনি, তেমনি দর্শককেও। এক ছাতার নিচেই দেখা যায় একাধিক দর্শক। সিংহভাগই নারী। গোমস্তাপুরের দেওপুরার রাইপাড়া, ভাঙ্গাপাড়া, তেলিপুকুর সহিরা, কাইয়াপাড়া—এই চার গ্রামের রাই গোষ্ঠীর মানুষ সম্মিলিতভাবে সোমবার সন্ধ্যা থেকে দেওপুরা গ্রামে করমা উৎসবের আয়োজন করেন।

এই গ্রামের মানিক রাই বলেন, প্রকৃতিপ্রেমী কৃষিজীবী আদিবাসীদের সব উৎসবই প্রকৃতিকে ঘিরে। ওঁরাও জনগোষ্ঠী ভাদ্রের পূর্ণিমায় কারামগাছের ডাল পূজাকে কেন্দ্র করে যে কারাম উৎসব উদ্‌যাপন করে, রাইরা সেটা ভাদ্রের রাধা তিথিতে করে ‘করমা’ নামে। গ্রামের উপবাসী কুমারী কিশোরী-তরুণীরা করামা গাছের (খিল কদম) গাছের ডাল কেটে এনে গ্রামের আখড়ায় (ফাঁকা স্থানে) পুঁতে। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঠাকুরাইন (বয়স্ক নারী) করমা পালনে পটভূমি অর্থাৎ কাহিনি বলেন। এরপর পুঁতে রাখা ডালকে ঘিরে চাঁদের আলো গায়ে মেখে রাতভর মাদল-বাঁশির তালে তালে ঝুমুর নাচে মাতোয়ারা হন গ্রামের নারী–পুরুষেরা।

একসময় ওঁরাও, মুন্ডা, রাইসহ সাদরিভাষী বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের গ্রামে গ্রামে করমা বা কারাম উৎসব করা হতো। কিন্তু ক্রমেই এগুলো হারিয়ে গেছে। এখন অল্প কিছু গ্রামে এ উৎসব পালিত হয়। এ উৎসব ধরে রাখার জন্য আদিবাসী যুব পরিষদ ও আদিবাসী ছাত্র পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা দেওপুরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সম্মিলিতভাবে এ উৎসবের আয়োজন করে।

আদিবাসী ছাত্র পরিষদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মানিক রায়ের সভাপতিত্বে করমা উৎসবের আলোচনায় বক্তব্য দেন পার্বতীপুর ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান, ইউপি সদস্য ফয়সাল কবির, শুকতারা বেগম, ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি তরুণ মুন্ডা, সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাজল পারে, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দিলীপ পাহান প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন