default-image

‘সকাল আটটায় কাজে যোগ দিতে হয়। তাড়াহুড়োতে সকালের নাশতা করতে পারিনি। পরে মা নাশতা নিয়ে আসছিল। আমি মেশিনে কাজ করছিলাম। মা এসে বলল, নাশতাটা খেয়ে নে। আমি বললাম মা তুমি যাও, আর এক পিসের কাজ আছে, শেষ করে যাচ্ছি।’ রেবেকা খাতুনের (৩১) সঙ্গে তাঁর মা চান বানুর এই ছিল শেষ কথা। এর অল্প কিছুক্ষণ পরই ধসে পড়ে রানা প্লাজা।

রেবেকা খাতুনের বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাই চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামে। রানা প্লাজার ষষ্ঠতলার একটি পোশাক কারখানায় রেবেকা, তাঁর মা, দাদি, ফুফু, ফুফাতো বোনসহ স্বজনদের মধ্যেই সাতজন বিভিন্ন পদে কাজ করতেন। ভবন ধসে মা-দাদিসহ পাঁচ স্বজনকে হারান রেবেকা। নিজে দুই পা হারিয়েছেন। বর্তমানে স্বামী আর দুই সন্তানের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

ঘটনার দিনের বর্ণনায় রেবেকা বলেন, ঘটনার সময় জ্ঞান হারিয়েছিলেন তিনি। চেতনা ফিরে পেলে দেখেন দুই পায়ের ওপর সিমেন্টের বিম চাপা পড়ে আছে। তখন দিন কী রাত বোঝার উপায় ছিল না। পিপাসায় গায়ের ঘাম জিবেতে দিয়েছেন। একজন উদ্ধারকর্মীকে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে পানি চান। তাঁকে বের করা হলে উদ্ধারকর্মীদের কাছে স্বামীর মুঠোফোন নম্বর দেন। পরে স্বামী মোস্তাফিজার রহমান রেবেকাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার কথা হয় এই রেবেকা-মোস্তাফিজ দম্পতির সঙ্গে। বেঁচে আছেন, এটাই তাঁদের কাছে বড় কথা। হাতের ওপর ভর দিয়ে চলাফেরা করেন রেবেকা। সংসারের সব কাজ করতে না পারলেও বাসন মাজা, তরকারি কাটা, রান্নার কাজ করতে পারেন।

রেবেকা বলেন, ‘পা দুটি না থাকায় আফসোস নেই। বেঁচে আছি, এটাই তো বড় কথা। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি, মায়ের মৃতদেহটার সন্ধানও পাইলাম না। ঘটনার এক দিন আগে ম্যানেজারের কাছে ছুটি চাইছিলাম। পাইনি। সেদিন ছুটিটা পাইলে অন্তত রক্ষা হইত।’

বর্তমানে এক ছেলে ও এক কন্যাসন্তানের মা রেবেকা খাতুন। স্বামী মোস্তাফিজুর কৃষিশ্রমিকের কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে পাওয়া ১০ লাখ টাকার স্থায়ী আমানতের টাকায় সংসার চলছে তাঁদের। স্বামীর প্রশংসা করে রেবেকা বলেন, তাঁর স্বামী ভালো মনের মানুষ। নিজে হাঁটাচলা করতে পারেন না। শৌচাগারে যাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে স্বামীই তাঁকে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালে থাকাকালেও স্বামী যেভাবে সেবা করেছেন, তাতে আর কিছু চাওয়ার নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন