গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ফিরোজশাহ ১ নম্বর ঝিল এলাকায় পাহাড়ধসে মারা যান যমজ শিশুর মা শাহীনুর আকতার ও তাঁর বোন মাইনুর আকতার। আহত হন তাঁদের বাবা ফজল হক ও মা রানু বেগম। ধ্বংসস্তূপ থেকে শাহীনুরের যমজ মেয়ে দুটি উদ্ধার করা হয়।

শিশুদের বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, গতকাল রাতে তানহাকে তাঁর বড় ভাই মো. ইমরানের বড়ইছড়ির বাসায় পাঠানো হয়। আর তিন্নিকে নিয়ে তিনি তাঁদের গ্রামের বাড়ি মিরসরাইয়ে চলে যান। সেখানে জয়নালের মা সখিনা বেগমের কাছে থাকবে তিন্নি। তিন্নির সঙ্গে তাদের একমাত্র বড় ভাই চার বছরের তরিকুল ইসলাম তানিমকে মিরসরাই নিয়ে যাওয়া হয়।

দুই মেয়েকে এখন গুঁড়া দুধ ও খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা মাঝেমধ্যে কান্নাকাটি করছে। কাপ্তাইয়ে বড় মেয়েটিকে তার চাচি (ইমরানের স্ত্রী) সাহারা খাতুন দেখাশোনা করবেন। সেখানে আরেক চাচি তানিয়া আকতারও রয়েছেন। সাহারার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তানিয়ারও এক মেয়ে রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর শুনে গতকাল ইমরান ও তাঁর স্ত্রী কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রাম আসেন। পরে যাওয়ার সময় তানহাকে নিয়ে যান। এরপর জয়নাল তিন্নি ও ছেলে তানিমকে নিয়ে মিরসরাই চলে যান।
জয়নাল বলেন, ‘উপায় নেই। মেয়ে দুটি কীভাবে বাঁচাব। তাই দুই জায়গায় পাঠিয়ে দিতে হয়েছে। মাঝেমধ্যে কান্নাকাটি করছে।’

জয়নাল আবেদীন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক। তিনি বাসা ভাড়া করে ফ্রিপোর্ট এলাকায় থাকেন। স্ত্রী শাহীনুর ও তিন ছেলে–মেয়ে ১ নম্বর ঝিলে শ্বশুর–শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। ওই ঘরে শাহীনুরের ছোট বোন মাইনুরও থাকতেন।

সপ্তাহান্তে শুক্রবার জয়নাল ১ নম্বর ঝিলে বেড়াতে যান। কিন্তু তিনি ছিলেন একটু দূরে শাহীনুরের আরেক বোন নার্গিসের বাসায়। শাহীনুরেরা যে ঘরে ছিলেন, সেটি পাহাড়ের সঙ্গে লাগানো। রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে পাহাড়টি ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জয়নাল বলেন, ‘রাতে যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন তাদের নার্গিসের বাসায় চলে আসতে ফোন করি। কিন্তু আসেনি। এরপর রাতে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, আমার স্ত্রীর পিঠের ওপর ইটের স্তূপ। তার বুকের নিচে যমজ মেয়ে দুটি। তাদের কিছু হয়নি। তাদের উদ্ধার করে খালার বাসায় রাখি। এরপর স্ত্রী ও তার বোন মাইনুরকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।’

দুই যমজ মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে কীভাবে বড় করবেন, তা নিয়ে এখন চিন্তায় জয়নাল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন