গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে মরিচের স্তূপ। মটুকপুর গ্রামের মরিচচাষি আবুল হোসেন বলেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় এখন পর্যন্ত ১২ মণ করে ফলন পেয়েছেন। এবার মরিচের বাজার ভালো। প্রতি মণ মরিচ ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।

মেলাপাঙ্গা গ্রামের মরিচচাষি মো. আফজাল হোসেন (৫০) বলেন, এই মরিচের হাট কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের মরিচ ব্যবসায়ীরা এখানে এসে ট্রাকে করে মরিচ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকার কৃষকেরা মরিচের দাম পেয়ে মরিচ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এ অঞ্চলে মরিচ এখন প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।

হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা আজিজার রহমান (৩৫) বলেন, গত বছর দাম কম থাকায় মরিচ চাষে লোকসান হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মরিচের দাম বেশি। এ রকম বাজার থাকলে দুই বিঘা জমিতে এক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।

হাটের আড়তদার সমিতির সভাপতি এনতাজুল হক বলেন, এখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার মণ মরিচ কেনাবেচা হয়। এই হাটের মরিচ সিরাজগঞ্জ, পাবনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। হাটটি উত্তরাঞ্চলে মরিচের জন্য বিখ্যাত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন কৃষকেরা। আর জেলার সবচেয়ে বেশি মরিচের চাষ হয় ডোমার উপজেলায়। ডোমার উপজেলায় এবার মরিচ চাষ হয়েছে ৭৮০ হেক্টর জমিতে।

ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন ও দাম দুটোই ভালো। এ অঞ্চলে বিন্দু, সাপ্লাই, ডেমা, ডেমা হাইব্রিড, জিরা, আকাশিসহ দেশি মরিচ চাষ হয়।

ডোমার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মালেক সরকার বলেন, এ অঞ্চলে মরিচের চাষ বেশি হয়। এখানে কৃষকদের নিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করত। তারা কৃষকদের মরিচের বাজার নিশ্চিত করতে ২০০৭ সালে এখানে মরিচের হাট বসানোর উদ্যোগ নেয়। এখন হাটটি থাকে জমজমাট। প্রতিদিন এখানে ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক ভর্তি করে ব্যবসায়ীরা মরিচ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে মরিচের ফলন বেশি হয়। এখন প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মরিচ কিনে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। হাটের কারণে এলাকার কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন।