default-image

নরসিংদীতে সহপাঠীদের মারধরে আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। বৃহস্পতিবার তার লাশ বাড়িতে আনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ওই ছাত্রের নাম মো. শুভ মিয়া (১৩)। শুভ রায়পুরা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. লায়েছ মিয়ার ছেলে। সে পাশের বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর সরাফত উল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ত।

নিহতের পরিবারের লোকজন জানান, গত ২৮ নভেম্বর বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে যায় শুভ। ওই সময় শ্রেণিকক্ষের প্রথম বেঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে শুভর সঙ্গে দুই সহপাঠীর ঝগড়া লাগে। এরই জেরে স্কুল প্রাঙ্গণে ওই দুজনসহ আরও ৮–১০ জন সহপাঠী মিলে শুভর মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় সে প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহমানের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এরপর সে অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে স্বজনেরা প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুভ মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান বলেন, গত শনিবারের ঘটনাটি ঘটেছিল বিদ্যালয়ের গেটের সামনে। এরপরই শুভ অভিযোগ নিয়ে আসে। তবে ওই সময় অভিযুক্তরা চলে গিয়েছিল। তিনি শুভর কাছ থেকে তাদের নাম ও রোল নম্বর লিখে রেখেছিলেন।

নিহতের বাবা মো. লায়েছ মিয়া বলেন, ‘ফার্স্ট বেঞ্চে বসার মতো সামান্য ঘটনায় আমার এতটুকু ছেলেকে বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা মেরে ফেলল। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই আমি।’

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, নিহত স্কুলছাত্রের লাশ রাজধানী থেকে রায়পুরার বাড়িতে আসার পরপরই পুলিশ গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল যেহেতু বেলাব উপজেলায়, তাই মামলা হবে সেখানে।

বেলাব থানার ওসি সাফায়েত হোসেন বলেন, ছাত্রের পরিবারের সদস্যরা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন