বিজ্ঞাপন

বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পুড়ে যাওয়া ভবনটির পাশের ছয়তলা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রিনা আক্তার। তিনি নিখোঁজ শ্রমিক শাহানা আক্তারের বোন। তাঁর হাতে বোনের ছবি আর চোখেমুখে যন্ত্রণার ছাপ। রিনা জানান, বোনের বকেয়া বেতন নিতে এসেছিলেন। বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কারখানার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সন্ধ্যা ছয়টায় বেতন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কার্ড না থাকায় আজকে বেতন দেয়নি। নাম ও ফোন নম্বর রেখে তাঁরা বলেছেন, পরে যোগাযোগ করবেন তাঁরা।

রিনা বলেন, ‘বোনকেই তো পাই নাই। কার্ড পামু কই? বোন আছে কি নাই, সেটাই তো জানি না। হাসপাতাল হাসপাতাল ঘুরতেছি বইনরে খুঁজতে। লকডাউনের কারণে ১০ টাকার ভাড়া হইছে ৪০ টাকা। কাজের টাকাটা দিলে অন্তত হাসপাতালে যাওয়ার খরচটা হইত।’

রিনার মতো বেতন না পেয়ে ফিরে গেছেন নিখোঁজ রাহিমার মেয়ে লিপা আক্তার, ইয়াসিনের ভাই ইব্রাহিমসহ আরও অনেকেই।

বেতন না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও দুজন প্রথম আলোকে বলেন, বেতন দেয়নি। মালিকপক্ষ থেকে ফোন এসেছিল। তারা সমবেদনা জানিয়েছে। বলছে, সুযোগ-সুবিধা করে দেবে। কিন্তু কারখানার সামনে আসা যাবে না। মিডিয়ার সামনে কথাও বলা যাবে না।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ কারখানাটির দুই হাজারের বেশি শ্রমিককে জুন মাসের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান হাসেম ফুল লিমিটেড প্রধান কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) এফ এম এ মুরাদ। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ওভারটাইম ও ১৬ জুলাই ঈদ বোনাস দেওয়া হবে। আহত শ্রমিকেরা আসতে না পারায় তাঁদের পরিচয়পত্র দিয়ে স্বজনেরা বেতন নিয়ে গেছেন। যেসব শ্রমিক আজ বেতন নিতে আসেননি, তাঁদের বুধবার বেতন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিখোঁজ শ্রমিকদের বেতন না দেওয়ার বিষয়ে হাসেম ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অ্যাকাউন্টস) নাহিদ মুরাদ বলেন, তাঁদের বেতন শিট করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণসহ সব পাওনা দিয়ে দেওয়া হবে। তবে কবে দেওয়া হবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন