এদিকে লোকসান নিয়ে দীর্ঘদিন চলার পর ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় চিনিকলসহ দেশের ছয়টি চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় সরকার। তবে চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ হলেও শিক্ষকেরা বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন। তহবিল না থাকায় বর্তমানে চিনিকলের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও চার মাস ধরে বেতন বকেয়া রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চিনিকলের মাড়াই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে একটা হতাশা কাজ করছে। তবে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আমাদের বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করেছে।’

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ৩০৯ জন শিক্ষার্থী পড়ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় শাখায় ৭৩ জন এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখায় রয়েছে ২৩৬ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টি থেকে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৬৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করে ৫৯ জন। ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৫ জন, পাস করে ৬১ জন। সর্বশেষ ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৬ জন আর পাস করে ৪৪ জন।

শিক্ষকেরা বলেন, আর্থিক সংকটে বিদ্যালয়টি শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারায় ১৮ জন শিক্ষকের বদলে বর্তমানে আটজন শিক্ষক রয়েছেন। ২০১০ সালের পর থেকে বিদ্যালয়টিতে আর কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একসময় বিদ্যালয়টিতে ১৮ জন শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু শিক্ষকেরা অবসর নিতে নিতে এখন আটজনে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ২০০৯ সাল থেকে বিদ্যালয়টি চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এদিকে চাপ সামলাতে স্থানীয়ভাবে তিনজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে দুজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলারা আলো বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় শিক্ষকসংকট দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া চিনিকলের মাড়াই বন্ধ হওয়ায় শিক্ষকেরা হতাশায় পড়ে যান। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য তাঁরা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে এমপিওভুক্তকরণ জরুরি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুরশীদ জাহান মাফরুহা বলেন, তাঁরা শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন যে বিদ্যালয়টি বন্ধ হবে না। এদিকে আর্থিক সংকটে তাঁরা শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছেন না। আর এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকেও শিক্ষক নিতে পারছে না। এ জন্য শিক্ষকসংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবার বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছেন, এমপিওভুক্ত হয়ে গেলে বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকটসহ সব সমস্যা কেটে যাবে।

জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চবিদ্যালয় পঞ্চগড়ের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সংকট কাটাতে তাঁদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন