default-image

সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে মানুষ আসা বন্ধ হয়নি। ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের বেশি থাকা মানুষও বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে প্রবেশ করছেন। এ পরিস্থিতিতে ফেরত আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখতে হিমশিম অবস্থায় পড়ছে জেলা প্রশাসন।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতফেরত মানুষের ঢল নেমেছে। গত তিন দিনে ৩০১ জন দেশে এসেছেন। বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকার ১২টি আবাসিক হোটেলে তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বেনাপোলে নতুন কাউকে রাখার জায়গা নেই। এদিকে প্রতিদিন ভারত থেকে ফেরা যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছেই।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতফেরত মানুষের ঢল নেমেছে। গত তিন দিনে ৩০১ জন দেশে এসেছেন। বেনাপোলে নতুন কাউকে রাখার জায়গা নেই।

যশোর জেলা প্রশাসন ও বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল থেকে স্থলবন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শর্ত সাপেক্ষে প্রথম দিনে ছয়জন দেশে ফেরেন। এরপর ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় দিন ১৪০ জন ও তৃতীয় দিন আজ বুধবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ১৫৫ জন দেশে ফিরেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম থাকা যাত্রীরা দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু যাঁরা দেশে ফিরেছেন, তাঁদের বেশির ভাগের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের বেশি রয়েছে। যে কারণে যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থাপনা সামাল দিতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ হিমশিম অবস্থায় পড়েছে।

ভারতফেরত যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখতে বিকল্প হিসেবে ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগা মাদ্রাসা ও যশোর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে বেনাপোলের আবাসিক হোটেলগুলোতে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির সরবরাহ নেই। খাবারের দাম বেশি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন কোয়ারেন্টিনে থাকা যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন
হোটেলের রাখার সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জনপ্রতি প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে, কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ ৪০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। প্রতিদিন খাওয়া ও থাকা দিয়ে একজনের খরচ হচ্ছে ৯৫০ টাকা। ভারতে চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দেশে ফিরে এখন এই ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
সুমন আহমেদ, কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত ব্যক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন আহমেদ। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। চিকিৎসার জন্য তিনি তাঁর চাচাকে নিয়ে ১১ এপ্রিল ভারতে যান। দেশে ফেরেন গতকাল মঙ্গলবার। ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে তাঁদের বেনাপোলের সিটি আবাসিক হোটেলে রাখা হয়েছে। ওই হোটেলে খাওয়ার পানির সরবরাহ নেই। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া অভিযোগ তুলে সুমন বলেন, ‘হোটেলের রাখার সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জনপ্রতি প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে, কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ ৪০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। পানি কিনে খাওয়া লাগছে। খাবারও নিম্নমানের। কম মূল্যের খাবারের বেশি মূল্য নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন খাওয়া ও থাকা দিয়ে একজনের খরচ হচ্ছে ৯৫০ টাকা। ভারতে চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দেশে ফিরে এখন এই ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যে ভাড়া নেওয়া হয়, তার অর্ধেক নেওয়ার জন্য আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তাতে তারা রাজিও হয়েছে। ভাড়া নিয়ে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে ভাড়া পরিশোধ করার জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম থাকা যাত্রীরা বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু আমরা যাচাই–বাছাই করে দেখেছি, দেশে ফেরত আসা অনেক মানুষের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের বেশি রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তমিজুল ইসলাম খান, যশোরের জেলা প্রশাসক

বেনাপোল দিয়ে ভারতফেরত যাত্রীর সংখ্যা তিন দিনে ৩০০ জন ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। প্রতিদিনই বেনাপোল দিয়ে আসা যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১৪ দিনে ভারতফেরত যাত্রীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

প্রজ্ঞাপনের পরেও ভারতফেরত মানুষের ঢল নামার বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের কম থাকা যাত্রীরা বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু আমরা যাচাই–বাছাই করে দেখেছি, দেশে ফেরত আসা অনেক মানুষের ভিসার মেয়াদ ১৫ দিনের বেশি রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

যাত্রীর এই চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে খবর নিয়ে জেনেছি, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরা যাত্রীর সংখ্যা আরও অন্তত ১০০ জন ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিদিনই যাত্রী আসার সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে বেনাপোলের সব আবাসিক হোটেল পরিপূর্ণ। বিকল্প হিসেবে গাজীর দরগা মাদ্রাসায় কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে রান্না করে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া যশোর শহর ও পরবর্তীকালে বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট জেলার আবাসিক হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন