default-image

একটি গাভি লালন-পালন করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখছিলেন বেলাল মিয়া ও মারুফা দম্পতি। করোনার এই মহামারির মধ্যে গত সপ্তাহে তাঁদের সেই গাভি চুরি হয়ে গেছে। মারুফা আহাজারি করছেন গ্রামের বাড়িতে বসে। আর ঢাকায় তাঁর স্বামী বেলাল মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

এই দম্পতি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বরিল্লা গ্রামের বাসিন্দা। বেলাল মিয়া ঢাকায় একটি বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের (কেয়ারটেকার) কাজ করেন। মারুফা গ্রামের বাড়িতে গাভিটি লালন-পালন করে আসছিলেন। গাভির দুধ বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি কিছু টাকাও জমা করতেন। তাঁদের স্বপ্ন ছিল, জমানো টাকা দিয়ে আরেকটি বাছুর কিনবেন। সেটা লালন-পালন করে সংসারে সচ্ছলতা আনবেন।

গৃহবধূ মারুফা বলেন, ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমানোর আগে গোয়ালঘরে গাভিটি দেখে ঘুমাতে যান। সকালে উঠে দেখেন গোয়ালঘর ফাঁকা। পরে জানা গেল, চোরের দল বরিল্লা গ্রামে পিকআপ ভ্যান নিয়ে ঢুকেছিল। গাভিটি ওরাই চুরি করে পিকআপে তুলে নিয়ে গেছে বলে তাঁর ধারণা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাতে বেলাল মিয়া এই প্রতিবেদককে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘স্যার, আমার সব শেষ অইয়া গেছে। ২১ এপ্রিল রাতে আমার আড়াই লাখ ট্যাকা দামের গাই (গাভি) গোয়ালঘর থিকা চুরি হইয়া গেছে। ১৬ হাজার ট্যাকায় বিদেশি জাতের একটা বাছুর কিনে আমার বউ লালন-পালন করে বড় করে তুলেছিল। গাইটার দুধ বিক্রি করে আমার সংসার চলত।’

বেলাল আরও বলেন, করোনায় লকডাউন চলার কারণে তিনি গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি। বাড়ি চলে গেলে চাকরি চলে যেতে পারে, এ শঙ্কায় ঢাকায় থেকে যান। কিন্তু গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁর স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে। এখন তিনি কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
গাভি চুরি হওয়ার পরদিন মারুফা নান্দাইল মডেল থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান বেলাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এতে কী লাভ অইল। আমি তো গাই ফেরত পাইতাছি না। স্যার, আপনেরা আমারে একটা ব্যবস্থা কইরা দেইন।’

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, গাভিটি উদ্ধার করার জন্য তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন