প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলিন্ডারটি রিকশার উপরই ছিল। সকাল আটটার দিকে বিকট শব্দে সিলিন্ডারটির বিস্ফোরণ হয়। এতে রিকশাচালক আহত হয়েছেন। আর বেলুন ব্যবসায়ীরা দুজন ছিলেন। তাঁরা আগুনের তাপে খানেকটা দগ্ধ হয়েছেন। তখনই তাঁরা সেখান থেকে চলে যান। তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

ঘণ্টাখানেক পর গিয়ে দেখা যায়, রিকশার পাশেই ছিল লোহার একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। সেটি ভেঙে কাত হয়ে গেছে। খুঁটির মাথায় ছিল দোয়েল পাখির একটি বাসা, তা থেকে একটি পাখি মরে পড়ে আছে রিকশার ওপর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলিন্ডারটি গাছগাছালির ভেতরে দিয়ে উড়ে প্রায় ১৫০ মিটার দূরের একটি বাড়ির ওপরে গিয়ে পড়েছে। পাশের চারতলা ভবনের ওপর দিয়ে একটি টিনশেড বাড়ির রান্নাঘর ও একটি শোয়ার ঘর লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। সিলিন্ডারটির তলা খসে কোথায় গেছে, তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিলিন্ডারটি এত ভারী যে তা একজন ধরে উঁচু করা যাচ্ছে না।

লন্ডভন্ড হওয়া বাড়িটির মালিক নুসরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, বাড়ির রান্নাঘর পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে। পাশের শোয়ার ঘরের দেয়াল ভেঙে ইটের কুচি সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। শোকেসের কাচ ভেঙে গেছে। ওই সময় বাসায় কেউ ছিল না। থাকলে নিশ্চয় তাঁদের ভয়ংকর বিপদ হতো। তিনি জানান, গোদাগাড়ীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি। ঋণ নিয়ে বাড়িটি করেছেন। ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তিনি বাড়ি ঠিক করতে পারবেন না।

রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা প্রহরী মো. মজনু বলেন, জিমনেশিয়ামটি চারতলা ভবনের সমান উঁচু। এই ভবনের ছাদের নিচে ভেন্টিলেশনের কাচগুলো মাস তিনেক আগে লাগানো হয়েছিল। অত উঁচু জায়গার কাচ কীভাবে ভেঙে পড়ল বুঝতে পারছেন না। তা ছাড়া হোস্টেলটাও খানেক দূরে। সেটির দরজা ও জানালার থাইগ্লাসও ভেঙে পড়েছে। কীভাবে এসব হলো তাঁরা বুঝেই উঠতে পারছেন না।

ব্যাংকার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ান ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় কোনো রক্তপাত ঘটেনি। কেউ আহত হননি। তাঁরা ওই বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন