বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুধু লুৎফর নন, থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত সবারই রক্ত জোগাড় করার ভোগান্তি প্রায় একই রকমের। চিকিৎসকেরা বলেন, এ রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে হিমোগ্লোবিন ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সাধারণত জন্মগতভাবে একটি শিশু থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। শিশুর বয়স বৃদ্ধির দুই বছরের মধ্যে রক্তস্বল্পতা, অরুচি, শারীরিক দুর্বলতা, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে না ওঠাসহ বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। তাই এ রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে মনোযোগী হওয়া জরুরি।

থ্যালাসেমিয়া রোগ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রতিবছর ৮ মে পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, ‘সচেতন থাকা, থ্যালাসেমিয়া জ্ঞান উন্নত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক হিসেবে কাজ করা’। দিনাজপুর স্বাস্থ্য বিভাগে জেলার থ্যালাসেমিয়া রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। গত শনিবার সকালে এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ফাতেমা ফারজানা বলেন, অর্ধশতাধিক থ্যালাসেমিয়া রোগী এই হাসপাতালে রক্ত নিতে আসেন। দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে এখানে ১০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগী রক্ত নেন।

গতকাল শনিবার সকালে লিপি আক্তার চার বছর বয়সী থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছেলে মুশফিককে ভর্তি করান এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাঁদের বাড়ি ফুলবাড়ি উপজেলার জিয়ত এলাকায়। জন্মের দুই বছরের মাথায় থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে মুশফিকের। তার পর থেকে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়। মুশফিকের বাবা বর্গাচাষি। লিপি আক্তার বলেন, প্রতি মাসে ছেলের জন্য রক্ত লাগে। রক্তদাতা পাওয়া কঠিন। একটা মানুষকে কতবার অনুরোধ করা যায়। কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। প্রতি মাসে ছেলের চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা রাখতে হয় তাঁদের। এ ছাড়া তিন মাস পরপর রংপুরে নিয়ে যেতে হয় বড় ডাক্তারের কাছে।

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তরা নিজেরাই রক্তদাতার সন্ধান করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মুখে মুখেই আক্রান্তদের নাম-পরিচয় বলে দিতে পারেন হাসপাতালের নার্সরাও। এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনু হাজরা জানান, এমন পরিবার আছে, যেখানে দুজন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের যাঁরা রক্ত দেন, তাঁদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ক্লাব, বিরামপুর ব্লাড ব্যাংক, বাঁধন, প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্ত সরবরাহ করতে সহায়তা করে আসছে। বিরামপুর ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্স আরিয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে তিন হাজার ব্যক্তির তথ্য আছে। ৮-১০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগীকে আমাদের ডোনারের মাধ্যমে প্রতি মাসে রক্ত সরবরাহ করা হয়।’

জেলা সিভিল সার্জন এ এইচ এম বোরহান উল ইসলাম বলেন, থ্যালাসেমিয়া হলে অনেকের ক্ষেত্রে এর কোনো উপসর্গ থাকে না। অনেক বেশি বয়সে গিয়ে ধরা পড়ে। এটাকে বলা হয় আলফা থ্যালাসেমিয়া। অন্যদিকে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ বেশি হলে তাকে বলা হয় বিটা থ্যালাসেমিয়া। এই পর্যায়ে মানুষ চিকিৎসকের কাছে আসেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র চালু হয়েছে। তাই এই বিষয়ে পরিবারগুলোতে সচেতনতা তৈরিতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন