default-image

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থাকা ‘হেলথ গার্ডেন’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে ১ হাজার ৬৫০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে ৫০ গ্রাম গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক সুমন রায়ের কক্ষে (চেম্বার) এসব পাওয়া যায়।

সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যৌথভাবে ওই অভিযান পরিচালনা করে খুলনা জেলা প্রশাসন ও খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় সেখান থেকে আসাদুজ্জামান হিরা ও অথৈ নামের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। ক্লিনিকের সুমন রায়ের কক্ষটি সিলগালা করে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সুমন রায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনা জেলা শাখার প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক এবং বিএমএ কেন্দ্রীয় শাখার কাউন্সিলর। ওই ক্লিনিকের মালিকানার একটি অংশ তাঁর রয়েছে বলে জানা গেছে।

যে দুজন আটক হয়েছেন, তাঁদের কাছেই কক্ষের চাবি ছিল। তাঁরাই কিছু করেছে বলে দাবি চিকিৎসক সুমন রায়ের।
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে সুমন রায় বলেন, তিনি দুপুরের দিকে ডুমুরিয়া উপজেলায় নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখতে গিয়েছিলেন। বিকেলের দিকে হঠাৎ শোনেন, তাঁর কক্ষে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যে দুজন আটক হয়েছেন, তাঁদের কাছেই কক্ষের চাবি ছিল। তাঁরাই কিছু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক ও এস এম রাসেল ইসলাম। তাঁরা জানান, সুমন রায়ের কক্ষ থেকে ইয়াবা বড়ি ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি মদের বোতল, গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের উপকরণ পাওয়া গেছে। এ কারণে ওই কক্ষটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আটক অথৈকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাত মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ শত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আটক আসাদুজ্জামান হিরা ও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে নিয়মিত মামলা হবে।

ওই ক্লিনিকে মালিকানায় সুমন রায়ের কোনো অংশিদারত্ব নেই উল্লেখ করে ক্লিনিকের মালিক খন্দকার আহসান উল্লাহ দাবি করেন, সুমন রায়কে ক্লিনিকের কাজের অংশিদারত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই ক্লিনিকে তাঁর নিজস্ব চেম্বার থেকেই ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এমন ঘটনার পর তাঁকে আর ক্লিনিকে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তাঁরা হাসপাতালের কোনো স্টাফ নয়, তাঁরা সুমন রায়ের ব্যক্তিগত সহকারী।

মন্তব্য পড়ুন 0