default-image

খুলনায় ‘হেলথ গার্ডেন’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে ১ হাজার ৬৫০টি ইয়াবা বড়ি ও ৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এক চিকিৎসকসহ দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. আতাউর রহমান বাদী হয়ে খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন।

সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ক্লিনিকে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে খুলনা জেলা প্রশাসন ও খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় থাকা চিকিৎসক সুমন রায়ের কক্ষ (চেম্বার) থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিদেশি মদের বোতল, গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় ওই কক্ষ থেকে আসাদুজ্জামান হিরা ও অথৈ নামের দুই কর্মচারীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে সুমন রায়ের কক্ষটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিজ্ঞাপন
ক্লিনিকের যে কক্ষ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়, সেটি সুমন রায়ের হলেও অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। মামলায় সুমন রায়কে পলাতক দেখানো হয়েছে।

মাদকদ্রব্য উদ্ধার করার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামিরা হলেন মো. আসাদুজ্জামান ও চিকিৎসক সুমন রায়। সুমন রায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনা জেলা শাখার প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক। ওই ক্লিনিকের মালিকানার একটি অংশ তাঁর রয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্লিনিকের যে কক্ষ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়, সেটি সুমন রায়ের হলেও অভিযানের সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। মামলায় সুমন রায়কে পলাতক দেখানো হয়েছে। ওই কক্ষ থেকে গাঁজা সেবনের সময় আটক সুমন রায়ের ব্যক্তিগত সহকারী অথৈকে সাত মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক ও এস এম রাসেল ইসলাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সুমন রায় ও আসাদুজ্জামান বিক্রির জন্য ইয়াবা ও গাঁজা সংরক্ষণ করেছিলেন।

খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আসাদুজ্জামান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়েছে। সম্প্রতি সুমন রায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ধারণা করা হচ্ছে, সুমন রায়ের ছত্রচ্ছায়ায় আসাদুজ্জামান মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

সোমবার মাদক জব্দ হওয়ার পর মুঠোফোনে জানতে চাইলে সুমন রায় দাবি করেন, যে দুজন আটক হয়েছেন, তাঁদের কাছেই কক্ষের চাবি ছিল। তাঁরাই কিছু করে থাকতে পারেন। ইয়াবা ও গাঁজার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তিনি দাবি করেন, তিনি দুপুরের দিকে ডুমুরিয়া উপজেলায় নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখতে গিয়েছিলেন। বিকেলের দিকে হঠাৎ শোনেন তাঁর কক্ষে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই ক্লিনিকে মালিকানায় সুমন রায়ের কোনো অংশীদারত্ব নেই উল্লেখ করে ক্লিনিকের মালিক খন্দকার আহসান উল্লাহ দাবি করেন, সুমন রায়কে ক্লিনিকের কাজের অংশীদারত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই ক্লিনিকে তাঁর নিজস্ব চেম্বার থেকেই ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এমন ঘটনার পর তাঁকে আর ক্লিনিকে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, তাঁরা হাসপাতালের কোনো স্টাফ নন, তাঁরা সুমন রায়ের ব্যক্তিগত সহকারী।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0