বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, করপোরেশনের আওতায় ছোটবড় মিলিয়ে মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪১ কিলোমিটার। নগরের যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুজগুন্নী মহাসড়ক। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সর্বশেষ সংস্কার হয় ২০১২ সালে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলছে এঁকেবেঁকে। গর্তের অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। আবার অনেক জায়গায় গাড়ি চলার সময় আশপাশ ধুলাময় হয়ে যাচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে বিশাল গর্তে গাড়ি আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার কয়েকজন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স, শত শত ইজিবাইক এবং ঢাকাগামী পরিবহন এই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করে। এখন সড়কে বিপজ্জনক অবস্থা। সড়কের বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, পূজাখোলা মোড়, বয়রা চিলড্রেন ভয়েস স্কুলের সামনে ও বয়রা মোড়ে রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

মুজগুন্নী মহাসড়ক দিয়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। খুলনা-কুষ্টিয়া রুটে চলাচলরত গড়াই পরিবহনের একটি বাস বয়রা মোড় থেকে নতুন রাস্তার দিকে না গিয়ে ভিন্নপথে বয়রা মহিলা কলেজের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। বাসচালক রমজান আলী বলেন, বয়রা বাজারের পর থেকে রাস্তা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। তারপরও যাত্রীদের গালমন্দ আর গাড়ির ক্ষতি মেনে ওই পথ দিয়েই গাড়ি চালাতেন। তবে মাস দুই ধরে এতটা খারাপ হয়েছে, ওই পথে আর পরিবহনের গাড়ি চলছে না।

সড়কের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বয়রা বাজার থেকে নতুন রাস্তা মোড় পর্যন্ত। মাঝে মাঝে এত বেশি ভাঙা যে, চার লেনের সড়কের দুই লেন বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কের পাশে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকের সামনে বিশাল দুটি গর্ত। এরপর প্রায় ১০০ মিটার জায়গা জুড়ে পানি জমা হয়ে রয়েছে। সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা গেল- কাপড় দিয়ে গর্ত চিহ্নিত করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, নগরের বেশির ভাগ সড়কের অবস্থা এখন বেহাল। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীদের নানা গাফিলতি আছে। একেবারে চলাচল অনুপযোগী না হলে রাস্তা মেরামত হয় না। তখন সংস্কার ব্যয় বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে কেসিসির ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও মেরামত প্রকল্পের পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে সড়কটির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন