বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন সিলেট দুগ্ধ খামারটি ১৯৩০ সালে টিলাগড় এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর এক পাশে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য পাশে এমসি কলেজের টিলাভূমির দুগ্ধ খামারের ৭০০ বিঘা জায়গায় ছোট-বড় ৫০টি টিলা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) ভবন দুগ্ধ খামারের পাঁচ একর জায়গায় স্থাপন করা হচ্ছে। শিক্ষা ভবন, শিক্ষক ভবন, ছাত্র ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণ করতে গিয়ে দুগ্ধ খামারের তিনটি টিলা কাটা পড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর ফটকের বিপরীত দিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঢাকা। বেড়ার পাশে টিলা কাটা মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে ১০০ গজ হাঁটলে টিনের বেড়ার আড়ালে টিলা কাটা দেখা যায়। সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত তিনটি টিলার মধ্যভাগ পর্যন্ত কাটা হয়েছে। মোট পাঁচ একর জায়গার মধ্যে অন্তত তিন একর জায়গার টিলা কেটে সমান করা হয়েছে। খননযন্ত্র দিয়ে টিলা কেটে সেখানকার মাটি রাস্তা নির্মাণ করতে ফেলা হয়েছে। রাস্তার পাশে টিলার পাশে বাঁশঝাড়গুলো কেটে এলোমেলো করে রাখা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০ মাসে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে ৩টি টিলা এলাকায়। করোনা পরিস্থিতির কারণে কার্যাদেশ বিলম্বে পাওয়ায় তিনটি ঠিকাদারি সংস্থা গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্থান পরিদর্শন করে। টিলা কেটে সমান্তরাল করার পর ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে বলে খননযন্ত্র দিয়ে টিলা কাটা চলছে।

জানতে চাইলে রয়েল কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী শনিবার প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের দ্রুত কাজ করতে বলেছে। এ জন্য টিলা কাটার কাজটি তাঁরা আগে করছেন। মুঠোফোনে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের এ রকম কোনো ছাড়পত্র সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থাকে দেওয়া হয়নি বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ হলেও টিলা কাটায় কোনো অনুমতি কাউকে দেওয়া হয় না।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় ও জেলার দপ্তর দুগ্ধ খামার এলাকায়। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. রুস্তুম আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে কিছু টিলা কাটা পড়ছে। তবে প্রকল্পের নকশায় আমরা দেখেছি, কয়েকটি ভবন টিলাশ্রেণির ভূমির কোনো পরিবর্তন না করে বাস্তবায়ন করা হবে। টিলার সেই অর্থে কোনো ক্ষতি হবে না।’

বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, পরিবেশ আইন ছাড়াও উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় সিলেট অঞ্চলে পাহাড়-টিলা কাটায় সরাসরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন