default-image

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নবগঠিত এই কমিটি অনুমোদনের মাত্র ২৭ দিনের মাথায় কমিটির ১৭ নেতা গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেছেন। এতে ৩১ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটিতে এখন আছেন মাত্র ১৪ জন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ বেড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, কমিটি ঘোষণা করা হয় ফেসবুকের মাধ্যমে এবং তাতে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকলেও সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে নির্যাতিত নেতাদের ভালো পদে না রেখে অথবা বাদ দিয়ে বিতর্কিত কয়েকজনকে নেতৃত্বে আনা হয়েছে। নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে যে দুজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁরা দুজনেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁরা বেড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও আছেন। আবার নতুন কমিটিতে অন্যান্য পদে অচেনা ব্যক্তিকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আরও নানা অভিযোগ তুলে গতকাল ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ১৭ নেতা পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে আছেন ৬ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১১ জন সদস্য।

বিজ্ঞাপন

যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগকারী মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘মাস চারেক আগে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে বিভাগীয় কমিটির কাছে আমরা ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে আহ্বায়ক ও মঞ্জুর কাদের চৌধুরীকে সদস্যসচিব রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৮ মার্চ দলীয় নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ও বিতর্কিত দুজনকে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে রেখে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমরা পদত্যাগ করেছি।’

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি ও সদস্যসচিব ছোটবেলা থেকেই দলের আদর্শ বুকে ধারণ করে আসছি। দলীয় আদর্শের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ আমাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আসলে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কাজটি করা হচ্ছে। যাঁদের পদত্যাগের কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের কেউ কেউ আমাদের ফোন করে জানিয়েছেন যে তাঁদের পদত্যাগের বিষয়টি সঠিক নয়।’

বেড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রইজউদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অনুমোদন জেলা কমিটির সুপারিশে কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়েছে। এখানে আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তাই এ ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করে থাকতে পারেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন