ঘটনাস্থল ঘুরে এসে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন, উখিয়ার জঙ্গল থেকে সম্ভবত খাবারের সন্ধানে ধোয়াপালং এলাকার ধানখেতে নামে এই মাদি হাতি। ধানখেত রক্ষার জন্য সেখানকার স্থানীয় লোকজন বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে রাখেন। হাতিটি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মারা যায়। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাতিটির শরীর থেকে মাথা ও পা বিচ্ছিন্ন করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। হাতি হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে।

স্থানীয় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মিজানুল ইসলাম বলেন, হাতি হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে নজির আহমেদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মির্জা আলীর দোকান এলাকার বাসিন্দা।

কক্সবাজার (দক্ষিণ) বন বিভাগের ধোয়াপালং বন রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গতকাল সোমবার মধ্যরাতে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মির্জা আলীর দোকানসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার ধানখেতে পাঁচ থেকে ছয়টি বন্য হাতি খাবার খেতে নামে। এ সময় ধানখেতের মালিক নজির আহমেদ, নুরুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনেরা হাতিগুলো তাড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ধানখেত থেকে তাড়ানোর জন্য হাতিগুলোকে বৈদ্যুতিক শক দেন। এতে অন্য হাতিগুলো পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও একটি মাদি হাতি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে মৃত হাতিটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, আজ দুপুরে হাতির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় রামু থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও কক্সবাজার বন আদালতে আটজনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কক্সবাজারের বনাঞ্চলে মহাবিপন্ন এই এশিয়ান হাতিগুলোকে একের পর এক হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত তিন বছরে কক্সবাজার ও আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ১৬টি হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ হাতির মৃত্যু হয় গুলি ও বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন