বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলার হোটেল মালিকেরা জানান, বৈরী আবহাওয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকেরা হতাশ। গতকাল রোববার রাত ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় অন্তত ১২ হাজার পর্যটক কক্সবাজার ছেড়েছেন। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট ১০ থেকে ১৫ হাজার পর্যটকও বাড়ি ফিরে যেতে পারেন বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

সৈকতের কলাতলী পয়েন্টের রেইনভিউ আবাসিক হোটেলে ৩৫টি কক্ষ আছে। আজ দুপুরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই হোটেলে ১৬টি কক্ষে অতিথি আছেন। হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকিম খান প্রথম আলোকে জানান, বৈরী পরিবেশে পর্যটকেরা সৈকতে নামতে পারছেন না। ফলে অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আজ সকালে অগ্রিম বুকিং করা ১২টি কক্ষ বাতিল হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার প্রথম আলোকে জানান, গত শুক্রবারেও সৈকত এলাকার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ ও গেস্টহাউস মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক ছিলেন। কিন্তু এখন মাত্র ১৫ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও কমে যাবে।

আবুল কাশেম সিকদার জানান, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছিল। তবে এখন কিছু কিছু বুকিং বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

default-image

ঝুঁকি নিয়ে গোসল

এদিকে সাগর উত্তাল থাকলেও পর্যটকদের ঝুঁকি নিয়ে সাগরের নামতে দেখা গেছে। আজ বেলা দুইটার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সাত থেকে আট হাজার পর্যটক সৈকত এলাকায় ঘোরাঘুরি করছেন। এর মধ্যে অন্তত দুই হাজার পর্যটককে উত্তাল সমুদ্রে নেমে গোসল করতে দেখা যায়।

বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রে নামতে নিষেধ করে সুগন্ধা পয়েন্টের দুই কিলোমিটারে ওড়ানো হয়েছে ছয়টি লাল নিশানা। নিশানার পাশে দাঁড়িয়ে সমুদ্রে না নামার জন্য ‘সি সেফ লাইফ গার্ড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার কয়েকজন কর্মী প্রচারণাও চালাচ্ছেন। তবে এসব উপেক্ষা করেই পর্যটকেরা ঝুঁকি নিয়ে সাগরে নামছেন।

স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে সৈকত ভ্রমণে এসেছেন ঢাকার মগবাজার এলাকার সাজ্জাদুল ইসলাম। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের সৈকতে নামেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে গোসলের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে গোসলের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। দুপুরে বৃষ্টি থামার পর সমুদ্রের পানিতে নেমেছি। তা না–হলে আর সাগরে নামার ইচ্ছাপূরণ হতো না। কারণ, রাতের বাসেই আবার ঢাকায় ফিরে যাব।’

সি সেফ লাইফ গার্ডের ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, বৃষ্টির কারণে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী সৈকত অনেকটাই ফাঁকা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর থেকেই পর্যটকের চাপ বেড়ে গেছে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক পানিতে নেমেছেন। ২৬ জন কর্মী নিয়ে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা দিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান জানান, বৈরী পরিবেশেও মানুষ উত্তাল সমুদ্রে নেমে গোসল করছেন। পর্যটকদের উত্তাল সাগরে না নামার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সামগ্রিকভাবে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তার বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন