বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ২০ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধান চাষ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩০ একর জমির ধানখেতে ব্লাস্টের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে স্থায়ীয় কৃষকেরা আরও বেশি জমিতে ব্লাস্টের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে জানান।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বেশিরভাগ জমিতে বোরো চাষ হয়ে থাকে। তবে হঠাৎ ধানখেতে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। কিছু দিন ধরে ধানখেতে শিষ বের হওয়া শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে ধানের শিষের গোড়ায় কালো হয়ে যাচ্ছে। তারপর থেকে সম্পূর্ণ শিষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। ধানগুলো চিটা হয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে দু-একটি ধানের গোড়ায় পচন দেখা দিয়েছিল। পরে একের পর এক জমির ধানের খেতে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আদ্রা ইউনিয়নের বকচরি বিলের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে ভালো ফলনের আশায় ব্রি-২৮ জাতের ধান লাগিয়েছিল। ভালো ধানও হয়েছিল। হঠাৎ প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ধানের শিষ সাদা রঙের হয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখে মনে হয়, ধান পেকে যাচ্ছে। কিন্তু ধানের গোড়ায় পচন ধরে যাচ্ছে। পরে জানতে পারেন, খেতে ব্লাস্টের সংক্রমণ হয়েছে। এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ওষুধ ছিটিয়ে বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক বজলুর রশিদ বলেন, চাষাবাদ করেই তিনি সংসার চালান। বোরো চাষের ফলন দিয়েই সারা বছর চলে। সেই তিন বিঘা জমিতে ব্লাস্টের রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। খেতের ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। অনেক ধানের শিষ সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক আবদুল হালিম বলেন, তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান চাষ করেন। এ জমিতে ধান চাষ করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে ছয় হাজার টাকার কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। তারপরও তাঁর জমির ধানখেতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে কীটনাশক তিন-চারবার প্রয়োগ করেও এ রোগ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

উপজেলার ভরাদ্দহ বিলজুড়ে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। সেখানকার কৃষক শেখ ফরিদ বলেন, চলতি বছর বোরো মৌসুমে তিনি তিন বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন। তিনি ভেবেছিলেন বোরো ধানের ভালো ফলন হবে। ধানের দাম ভালো থাকায় লাভবান হবেন তিনি। কিন্তু ধানের খেতে যেভাবে ব্লাস্ট রোগে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ওই জমিতে এক মণ ধানও হবে কি না, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, এ রোগের সংক্রমণের আশঙ্কা ছিল। ফলে কৃষকদের রোগ প্রতিরোধে কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা কীটনাশক প্রয়োগ করেননি, তাঁদের জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। তবে তুলনামূলক অনেক কম। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ রোগ প্রতিরোধে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ করলে, এ রোগ থেকে ধান রক্ষা সম্ভব।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন