বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমলি আদালতে করা মামলার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান ২০০০ সালের ২৩ মে বোয়ালমারীর পৌরসভার ওয়াপদার পাশে মৃত রশিদ মোল্লার স্ত্রী ও চার মেয়ের কাছ থেকে দুটি দলিলে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে ২ শতাংশ জমির ওপর দোকান ঘর তৈরি করে হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করে আসছিলেন। রশিদ মোল্লার স্বজনদের কাছ থেকে একই জায়গায় জমি কিনেছিলেন বোয়ালমারী সোতাশী এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই ইয়াকুব হোসেন ও বেলায়েত হোসেন। এই দুই ভাইয়ের অভিযোগ, তাঁদের দাগের জমি ভোগদখল করছেন আতিয়ার। এ নিয়ে বিরোধ চলছিল।

মামলার আবেদনে আতিয়ার বলেন, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ওই দুই ভাই ইয়াকুব হোসেন ও বেলায়েত হোসেন গুদাম দখলের চেষ্টা করলে তিনি বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি করার পর তিনি ওসির রুমে গেলে ওসি তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই দিন তিনি ওসিকে ৫০ হাজার টাকা দেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ওই দুই ভাই তাঁর গুদামের তালা ভেঙে সিমেন্টের বস্তা ওঠানোর চেষ্টা করেন। আতিয়ার বিষয়টি দ্রুত ওসিকে জানান। ওই সময় ওসি তাঁর কাছে পুনরায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এবার তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ওসি তখন হুমকি দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আতিয়ারকে মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করবেন। পরে আতিয়ারকে এসআই উত্তম চড়, কিল ও ঘুষি মেরে থানা থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে পরে পুলিশ সুপার, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ, মহাপুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ করেন আতিয়ার। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে ও বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি আদালতে এ অভিযোগ করেন।

মামলার আবেদনের খবর পাওয়ার পর পরই বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান। তিনি বলেন, আতিয়ার রহমান গত ৬ মার্চ তাঁর কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন এক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ওই তদন্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানসহ ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তদন্ত এখনো চলমান।

পুলিশ সুপার বলেন, আতিয়ার রহমান পুলিশের নির্ধারিত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগসংশ্লিষ্ট একটি কাগজও পৌঁছে দেন। অথচ একই দিন তিনি আদালতে গিয়ে যে অভিযোগ করেন, তাতে আগের অভিযোগের চেয়ে নতুন অনেক কথা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বলেছেন, স্থানীয়ভাবে ও বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ব্যাপারে কোনো সুরাহা তিনি পাননি। তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কাগজ জমা দেওয়ার দিনই আদালতে একই বিষয়ে মামলার আবদেন করার বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছে না বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে আতিয়ারের আইনজীবী লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আতিয়ার আদালতে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এটি সত্য নাকি মিথ্যা এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়ায় তা যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদালত পিবিআইকে তদন্তের ভার দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযোগটি মামলায় পরিণত হবে। সত্য প্রমাণিত না হলে অভিযোগটি খারিজ হয়ে যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন