default-image

লোকসানের কথা বলে দীর্ঘ ১৮ বছর বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা। জেলা প্রশাসন, রেশম বোর্ড, আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক মতবিনিময় সভায় কারখানাটি বেসরকারিভাবে চালুর বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবারের সভাটি আহ্বান করেন জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান বাবলু, মাহাবুবুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, রেশম বোর্ডের সহকারী পরিচালক সুলতান আলী প্রমুখ।

সভায় জেলা প্রশাসক সরকারি ব্যবস্থাপনায় কারখানাটি চালুর প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে ব্যক্তি উদ্যোগে চালুর প্রস্তাব দেন। পরে রেশম বোর্ডের মহাপরিচালক মু. আবদুল হাকিম মুঠোফোনে বক্তব্য দেন। সে সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানাটি চালুর জন্য মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু বোর্ডের জনবলসংকট আছে। তাই বোর্ডের পক্ষে এখন কারখানাটি চালু করা সম্ভব নয়। এ জন্য কারখানাটি মাসিক বা বার্ষিক ফি নিয়ে প্রাইভেট সেক্টরে চালানোর সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে।

সভায় এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান, মামুনুর রশিদ ও আবদুর রাজ্জাক কারখানাটি তাঁদের উদ্যোগে পরিচালনার আগ্রহ দেখান।

বিজ্ঞাপন

সভা শেষে জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় লোকজনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তি উদ্যোগে রেশম কারখানাটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেশম কারখানাটি চালু করা, রেশম চাষের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রেশমশিল্পের সুদিন ফেরানো সম্ভব। আর রেশম বোর্ডের সহকারী পরিচালক সুলতান আলী বলেন, কারখানাটি চালুর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংস্কার করা হয়েছে। যেকোনো সময় কারখানা চালুর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

রেশম বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫-৭৬ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস ঠাকুরগাঁওয়ের গোবিন্দনগর এলাকায় ৩ দশমিক ৩৪ একর জমির ওপর রেশম কারখানাটি স্থাপন করে। ২০০২ সালে কারখানাটি বন্ধ হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন