বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে মদনের গোবিন্দশ্রী বাজারসংলগ্ন বৈশাখী নামের একটি খালের সরকারি প্রায় ৭৭ শতক জায়গায় গোবিন্দশ্রী গ্রামের শাহজাহান মিয়া, খায়রুল ইসলাম, ভুট্টু মিয়াসহ অন্তত ১১ জন মিলে মাটি ভরাট করেন। পরে ওই স্থানে তাঁরা দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ নিয়ে ওই বাজারের আসবাব ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান খান গত ২৯ জানুয়ারি ইউএনওর কার্যালয়ের লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে ইউএনও মো. বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে তা উচ্ছেদ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন গত ২৬ জুন মনিরুজ্জামানের বড় ভাই হৃদন মিয়ার বাজারে থাকা চায়ের দোকান ভাঙচুর ও বাড়িতে হামলা চালান। এতে ২ নারীসহ ১১ জন আহত হন। ঘটনার দুই দিন পর হৃদন মিয়ার ছোট ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার পর প্রতিপক্ষের লোকজন গোবিন্দশ্রী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাজল মোড়ল, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিটন মিয়া, বাজার কমিটির সভাপতি ছোট্টন মিয়া, সদস্য ভুট্টু মিয়াদের সঙ্গে আঁতাত করে বাজারে থাকা মনিরুজ্জামান খানের দোকানঘরটি বিদ্যালয়ের জায়গায় উল্লেখ করে গত ২২ আগস্ট তালা দেন। এর পর থেকে ঘরটি জোর করে তালাবদ্ধ রাখা হয়। এ নিয়ে মনিরুজ্জামান ২৫ আগস্ট ইউএনওর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ইউএনও উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসায় বসেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। মনিরুজ্জামান খান গতকাল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, তিনি দোকানঘরটি ১ সেপ্টেম্বর খুলতে গেলে কাজল মোড়ল, ছোট্টন মিয়া ও শাহজাহান মিয়া তাঁর কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। মুঠোফোনে কথা বলেও তাঁরা ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসব প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। তিনি এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাজল মোড়ল ও ছোট্টন মিয়া বলেন, ‘ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ঘরটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আর ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি ঠিক নয়। মনিরুজ্জামান আমাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন।’

ইউএনও বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। কোনো পক্ষই ছাড় দিতে চায় না। আর দোকানঘর তালাবদ্ধ করে দেওয়ার কোনো নির্দেশ আমি কাউকে দিইনি। আগামী রোববার দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন