default-image

ব্যবসায়ীকে মারপিটের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান।

বিজ্ঞাপন

সাব্বির রহমান জানান, ছাত্রলীগের ওই নেতার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সংগঠন থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিন দিনের মধ্যে তাঁকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি তাঁর জবাব দেননি। ব্যবসায়ীকে মারধরের ভিডিও ছাত্রলীগকে বিব্রত করেছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর কোনো ধরনের অন্যায়-অপকর্ম মেনে নেওয়া হবে না।

মামলার পর থেকে রাজু আহমেদ ও নয়ন পলাতক আছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নজরুল ইসলাম, ওসি, মহাদেবপুর থানা

মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরএফএল ভিগো শোরুমের স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ নেতা রাজু আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাদীর দোকানে ঢুকে তাঁকে মারধর করে তুলে নিয়ে যান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ ও সঙ্গীরা।


এ ঘটনায় গত রোববার ব্যবসায়ী সোহেলের দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানে ঢুকে সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারছেন এক যুবক। সেখানে রাজু আহমেদসহ আরও একজনকে দেখা যায়। আরও অনেকের কথা বলার আওয়াজ পাওয়া গেলেও তাঁদের ভিডিওতে দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদা চেয়ে না পেয়ে রাজু আহমেদ ও তাঁর লোকজন তাঁর দোকানে ঢুকে আমাকে মারধর করেন। তাঁরা দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে দেড় লাখ টাকা, কয়েকটি স্মার্টফোন ও একটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যান। মামলার পর আট দিন পেরিয়ে গেলেও রাজু ও তাঁর সঙ্গীরা গ্রেপ্তার হননি। এখনো তাঁরা বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন।’


এ বিষয়ে জানতে আজ সোমবার রাজু আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর থেকে রাজু আহমেদ ও নয়ন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য পড়ুন 0