default-image
নদ-নদী বিধৌত গাইবান্ধা উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যমণ্ডিত জেলা। ২ হাজার ১৭৯ দশমিক ২৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় উপজেলা ৭টি, পৌরসভা ৩টি, ইউনিয়ন ৮২টি ও গ্রাম রয়েছে ১ হাজার ২৪৯টি। মূলত কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শ্রমনির্ভর অর্থনীতির এই জেলায় লোকসংখ্যা ২৬ লাখের কাছাকাছি। করোনাকালে এই জনপদজুড়ে জীবন-জীবিকা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী আর প্রান্তিক মানুষের কষ্টের গল্পগুলো ভিন্ন রকম হলেও জীবনযাপনে একটি বিষয় অভিন্ন। আর তা হলো ভীষণ মানবেতর আর দুর্বিষহ অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় কাটছে তাদের। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে উঠে এসেছে তাদের কষ্টের চিত্র।


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার বুক চিরে নির্মিত ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক। এই মহাসড়ক থেকে গাইবান্ধা জেলা শহরের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। রেলপথে যোগাযোগও ভালো নয়। ফলে গাইবান্ধা একটি ‘পকেট শহরে’ পরিণত হয়েছে। মামলা-মোকদ্দমা ছাড়া সদরের বাইরের ছয়টি উপজেলার লোকজন জেলা শহরে যান না। এর মধ্যে ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জের লোকজন বগুড়া, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও সুন্দরগঞ্জের লোকজন রংপুরে গিয়ে কেনাকাটা করেন। কেবল ঘুরেফিরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লোকজন জেলা শহরে কেনাকাটা করে থাকেন। স্বাধীনতার পর থেকে এই অবস্থা চলছে। উপরন্তু করোনাভাইরাসের কারণে গাইবান্ধা শহরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব চরম আকার ধারণ করেছে।

করোনাকালে গাইবান্ধা শহরের অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। বর্তমানে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা থাকছে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে বেশির ভাগ সময় হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে দোকানিদের। ১৩ জুলাই সালিমার সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানিই আশপাশের দোকানিদের সঙ্গে গল্পগুজব করে সময় অতিবাহিত করছেন। এই মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাপ্পা সাহা বলেন, পকেট শহরের কারণে এমনিতেই ব্যবসা ভালো নয়। উপরন্তু করোনার কারণে ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই বিপণিতে আমার রেডিমেড কাপড়ের দোকান রয়েছে। দোকানে তিনজন কর্মচারী কাজ করেন। তাঁদের প্রত্যেকের বেতন ৬ হাজার টাকা। করোনার আগে দৈনিক ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়েছে। এখন দোকানপাট খোলা। কিন্তু ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি বেচাকেনা হচ্ছে না। লাভ তো দূরের কথা, ক্যাশের (সঞ্চয়) টাকা ভেঙে কর্মচারীদের বেতন দিতে হচ্ছে।’

শহরের পৌর মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, ‘আগে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বেচাকেনা হয়েছে। মাসিক যা আয় হয়েছে, তা দিয়ে দোকানের দুজন কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল দিয়েছি। দোকানের আয় দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চলেছে। কিন্তু করোনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে দোকান বন্ধ থাকে। বসে বসে খেয়ে ক্যাশের টাকা প্রায় শেষ। ঈদের আগে বেচাকেনা করে ক্ষতি পুষিয়ে নেব, কিন্তু সে গুড়ে বালি। এখন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। তা দিয়ে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন কীভাবে দেব, সংসারই–বা চলবে কীভাবে, চিন্তায় আছি।’

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা আরও করুণ। শহরের পৌর পার্কে চটপটি বিক্রি করতেন বাবলু মিয়া (৩৫)। জেলা শহরের সরকারপাড়ায় তাঁর বাসা। আগে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হতো। দৈনিক আয় হতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসার ভালোই চলত। বাবলু মিয়া বলেন, করোনার ভয়ে এখন পার্কে কেউ আসে না। চটপটিও বিক্রি হয় না। তাই চটপটির ব্যবসা বাদ দিয়ে এখন রিকশা চালান।

গাইবান্ধা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মাকছুদার রহমান বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাভাব যাচ্ছে। জেলার অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়েছেন। তাই ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া প্রয়োজন।

দিনমজুরদের কাজ নেই
কাশেম আলী (৫০) পেশায় দিনমজুর। ছয় সদস্যের সংসার। বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার গোঘাট গ্রামে। গ্রামেই দিনমজুরের কাজ করেন। বোরো রোপণ ও কর্তনের সময় ব্যস্ত থাকেন। অন্য সময় ঢাকায় রিকশা চালান। গ্রামে কাজ না থাকায় ১৫ দিন আগে তিনি ঢাকায় যান। যাওয়ার আগে এক সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। রিকশা চালিয়ে বাড়ির খরচ ও ঋণ পরিশোধের কথা। কিন্তু করোনার কারণে তাঁকে কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। কাশেম আলী বললেন, ‘সাত দিন আগে বাড়ি এসেছি। ঢাকা থেকে তিন হাজার টাকা এনেছিলাম। তা দিয়ে ঋণের টাকা দিয়েছি। এখন হাতে কাজ নেই। সাত দিনে আড়াই হাজার টাকা ধার করেছি। কাজ পেলে ঋণের টাকা শোধ করব নাকি সংসার চালাব, চিন্তায় আছি।’

default-image

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের দিনমজুর আলমগীর মিয়া (৪৫) বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে দিনমজুরের কাজ করতাম। দৈনিক মজুরি পেতাম ৩৫০ টাকা। তা দিয়ে কোনোমতে চার সদস্যের সংসার চলত। করোনা ও বন্যায় সেই কাজও বন্ধ। জমির মালিকেরা কাজে নিতে চাচ্ছেন না। তাঁরা বলছেন, ‘দেশের অবস্থা ভালো না। অবস্থা ভালো হলে কাজে নেব।’ তিনি বলেন, ‘একদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। কিন্তু সাত দিন থেকে বাড়িতে বসে আছি। গ্রামের এক দোকানে চাল-ডাল বাকিতে নিয়ে সংসার চলছে।’

ফুলছড়ি উপজেলার পূর্ব ছালুয়া গ্রামের শামসুল মিয়া (৪০) বলেন, ‘প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। কাজ থাকলে আমাদের ভাতের সমস্যা নেই। কিন্তু করোনার কারণে প্রায় তিন মাস ধরে বাড়িতে বসে আছি। মাসিক ১০০ টাকা সুদে তিন হাজার টাকা এক মহাজনের কাছে নিয়েছি। এই টাকা শেষ হলে কী করব চিন্তায় আছি।’

ডেকোরেটর ব্যবসায় ধস
গাইবান্ধায় জেলায় ৮ শতাধিক সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া ও ডেকোরেটরের দোকান রয়েছে। কিন্তু চার মাস ধরে ডেকোরেটরের ব্যবসা চলছে না। করোনার কারণে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। হচ্ছে না বিয়ের অনুষ্ঠান। ফলে চার মাস ধরে ডেকোরেটর ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের ভাই ভাই ডেকোরেটরের মালিক ছাদেকার রহমান বলেন, ‘ডেকোরেটরের চেয়ার-টেবিল ও হাঁড়ি–পাতিল ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হতো। কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাদে এই আয় হতো। কিন্তু করোনার কারণে গত চার মাসে এক টাকা আয়ও হয়নি। গরু বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি।’

ফুলছড়ি উপজেলার কালীর বাজার এলাকার ছালাম সাউন্ড অ্যান্ড ডেকোরেটরের মালিক আবদুস ছালাম বলেন, ‘করোনাভাইরাসরে কারণে চার মাসের অধিক সময় ধরে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন সামাজিক–সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ডেকোরেটরের ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল বকেয়া পড়ে আছে। চার মাস হলো কোনো ভাড়া না থাকায় পরিবার–পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে ধারদেনা করে দিনাতিপাত করছি। তার ওপর আবার দোকানঘর মালিকের ঘরভাড়া পরিশোধের চাপ তো রয়েছেই।’ তিনি বলেন, করোনার কারণে ধর্মীয় সভাসহ বিভিন্ন সামাজিক–সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ হওয়ায় তাঁর ৬ জন কর্মচারীসহ সবাই বেকার হয়ে পড়ছেন।

গাইবান্ধা জেলা ডেকোরেটর ও মাইক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া বলেন, জেলায় ছোট-বড় আট শতাধিক ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেমের দোকান রয়েছে এবং এ পেশায় প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন। করোনায় তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে সবার পরিবারে করুণ অবস্থা চলছে।

মেসভাড়া দিতে চাপ
করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর পুলিশ শহরের মেসগুলো বন্ধ করে দেয়। ওই দিন থেকে গাইবান্ধা জেলা শহরের মেসগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যান। প্রায় দেড় মাস ধরে মেসগুলো বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ভাড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ দিচ্ছেন মেসমালিকেরা। ফলে শিক্ষার্থীরা ভাড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

গাইবান্ধা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা শহরে ৪ শতাধিক মেস রয়েছে। মেসগুলোতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। শহরের কলেজ রোড, থানাপাড়া, পলাশপাড়া, প্রফেসর কলোনি, সাদুল্যাপুর রোড, খানকাশরীফ ও গোডাউন রোডে মেসের সংখ্যা বেশি। বিশেষত গাইবান্ধা সরকারি কলেজ, গাইবান্ধা আহমেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজ, গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজ ও গাইবান্ধা আদর্শ কলেজ ঘিরে এসব মেস গড়ে উঠেছে। এসব মেসের বেশির ভাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় তিন মাস ধরে মেস বন্ধ। ফলে তাঁরা বাড়িতে অবস্থান করছেন। কিন্তু এপ্রিল থেকে জুন মাসের ভাড়ার জন্য তাঁদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ফোন করা হচ্ছে। বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে। টাকা না পাঠালে পরবর্তী সময়ে মেসে উঠতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একে ছাত্র মানুষ, তার ওপর বাড়িতে থাকায় কী করবেন বুঝতে পারছেন না তাঁরা। মেসভাড়া নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন এসব শিক্ষার্থী।

default-image

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট এলাকার এক ছাত্র বলেন, ‘আমি গাইবান্ধা সরকারি কলেজে পড়ি। বাড়ি থেকে কলেজে যাতায়াত সমস্যা। তাই মেসে থাকি। আমরা দুই ভাই, দুই বোন। সবাই লেখাপড়া করি। বাবা একজন কৃষক। সংসারের আয় দিয়ে সবার পড়ার খরচ দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি একবেলা প্রাইভেট পড়িয়ে মেস খরচ চালাই। কিন্তু মেস বন্ধ থাকায় প্রাইভেটও বন্ধ। ভাড়ার জন্য মালিক এ পর্যন্ত ৭ বার ফোন দিয়েছেন। কীভাবে ভাড়া দেব। চিন্তায় পড়েছি।’

পড়ালেখায় অপূরণীয় ক্ষতি
করোনার কারণে প্রায় চার মাস ধরে স্কুল-কলেজ বন্ধ। বাড়িতেও শিক্ষার্থীদের তেমন লেখাপড়া হচ্ছে না। ফলে লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। করোনার কারণে ভেঙে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই কোনো শিক্ষার্থীর। একসময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দিতেন শিক্ষকেরা। এরপর বাড়ি ফিরে বিকেলে কেউ গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ত আবার কেউবা ছুটত কোচিং সেন্টারে। পরদিন পড়া না পারলে ক্লাসে শিক্ষকের বকার ভয়ে রাত অবধি পড়ার টেবিলে বসে পড়ত শিক্ষার্থীরা। ছিল নিয়মিত পড়ার চর্চা, ছিল অধ্যবসায়। কিন্তু করোনাকালে সব নিয়ম পাল্টে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের তরফজাহান গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। সে বলে, ‘এ বছর কোনো পরীক্ষা হয়নি। আর পরীক্ষা না হলে কীভাবে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হব, জানি না। এ কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ নেই। সারা দিন বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করি।’

default-image

গাইবান্ধা শহরের সুখনগর এলাকার নিউটন প্রিপারেটরি স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, করোনার কারণে শুধু যে বিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারগুলোয় পড়াশোনা বন্ধ আছে তা কিন্তু নয়, বাড়িতেও কোনো অভিভাবক তাঁর সন্তানদের গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াচ্ছেন না। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকের কাছে পড়তে চায় না বলেই গৃহশিক্ষক বা কোচিং সেন্টারে পড়াতে হয়। কিন্তু করোনার ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদি ছুটি পাওয়ায় পড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে যাবে। এই করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় শুধু শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে শিক্ষকদেরও। কেননা শিক্ষার্থীদের দেওয়া বেতনেই চলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর হাজী ওসমান গনি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ থাকায় রুটিন পাল্টে গেছে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর। পড়ার বদলে কেউবা আসক্ত হচ্ছে টেলিভিশন, ভিডিও গেমস, আবার কেউবা মোবাইল-ইন্টারনেটে। এতে দীর্ঘসময় পাঠ্যপুস্তক থেকে দূরে থাকায় পড়ার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থীরা, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আগামী দিনে ক্ষতি বয়ে আনবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0