default-image

চট্টগ্রামে এক ব্যাংকারের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামির নাম আরাফাত হোসেন। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন মোহাম্মদ রেজা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

গত ৭ এপ্রিল ব্যাংকার আবুল মোরশেদ চৌধুরী আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি চার পৃষ্ঠার একটি সুইসাইড নোট রেখে যান। এর একটি অংশে লেখা ছিল, ‘আল্লাহ আমাকে রক্ষা করবে, আরেকটু দেখি, আরেকটু দেখি করতে করতে দেনার গর্তটা অনেক বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে। যারা কোনো টাকাই পেত না, তাদের দিতে গিয়ে এখন সত্যিকারের দেনায় জর্জরিত। বেঁচে থাকলে এ দেনা আরও বাড়বে। তা ছাড়া পরিচিতগুলোই এখন চেপে ধরেছে বেশি। এই লোড আমি আর নিতে পারছি না, সত্যি পারছি না।’

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আসামি আরাফাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গোয়েন্দা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। সেখানে বলা হয়, ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল মোরশেদ চৌধুরীকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের সঙ্গে আসামি জড়িত। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন। পরে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ২৭ এপ্রিল আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

নিহত আবুল মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় স্বামীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ২৪ এপ্রিল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরীসহ অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর স্ত্রী লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামীর ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী ও পাঁচলাইশের সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দীনের কাছে থেকে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যবসাসূত্রে ২৫ কোটি টাকা নেয় মোরশেদ। ২০১৮ সালের লভ্যাংশসহ তাদের পরিশোধ করা হয় ৩৮ কোটি টাকা। এরপর থেকে আরও টাকা দাবি করতে থাকে তারা। এ জন্য আমার স্বামীকে তারা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে চাপ এবং হুমকি–ধমকি দিতে থাকে। ২০১৮ সালের মে মাসে আমার স্বামীকে পাঁচলাইশের এম এম টাওয়ারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরও ১২ কোটি টাকা বাড়তি তারা পায় উল্লেখ করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়।’

২০১৯ সালে তাঁদের হিলভিউর বাসায় হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ইশরাত। তিনি বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমার স্বামীকে হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ছাড়াও বাসায় হামলা, কন্যাকে অপহরণ এবং স্বামীকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয় অনেকবার। তাদের নির্যাতনের কারণেই মূলত আমার স্বামী আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন