বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের প্রতিরোধের মুখে পড়ে সাড়ে ৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা বাতিল করে প্রশাসন। সবশেষ গত ৩ আগস্ট প্রশাসন ৯৪৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত করেছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে অন্তত দুই বছর লাগবে। এরপর হবে ভূমি উন্নয়ন ও স্থাপনা নির্মাণের কাজ।

নতুন শহর যেন পরিকল্পিত হয়, নগরায়ণের সব শর্ত মেনে যেন করা হয়। সেখানে পর্যাপ্ত মাঠ, জলাশয় ও সবুজ থাকতে হবে। বড় বড় ভবন করা হলে নতুন শহর আবার গলার কাঁটা হবে।
আবুল কালাম আল আজাদ সমন্বয়ক, ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, অন্তত ৩৫টি অফিস অধিগ্রহণকৃত এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হবে। নদের ওপর তিনটি সেতু হবে, তার মধ্যে বিভাগীয় কার্যালয়ের সরাসরি যাতায়াতের সেতুটি হবে নগরের টাউন হল এলাকায়। চরে হবে দৃষ্টিনন্দন শহর। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ১৪ দফা নির্দেশনা রয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস বললেন, সরকার সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় ব্রহ্মপুত্র নদের চরে একটা নতুন শহর হবে। তবে কবে নাগাদ তা দৃশ্যমান হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

৫ হাজার কোটি টাকায় তিন সেতু

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর এখন আছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। এ সেতু দিয়ে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলার মানুষ যাতায়াত করে। প্রতিদিন সেতুতে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এই সেতু দিয়ে সম্ভাব্য নতুন শহরে যাতায়াত করতে অনেক পথ ঘুরতে হবে।

সওজের ময়মনসিংহের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কার্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে টাউন হল মোড় এলাকায় যে সেতু করা হবে, তার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

শহরতলির রহমতপুর এলাকার সেতুটি ময়মনসিংহের সঙ্গে শেরপুর জেলার যাতায়াতকে সহজ করবে। তবে এর জন্য ৪৫ কিলোমিটার সড়কও নির্মাণ করতে হবে। সওজের ময়মনসিংহ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এর সম্ভাব্য ব্যয় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কেওয়াটখালী এলাকায় হবে দৃষ্টিনন্দন একটি একটি স্টিলের সেতু। ২৪ আগস্ট এটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।

নতুন শহরে যা থাকবে

ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগ জানায়, অধিগ্রহণ করা জমিতে কী কী স্থাপনা হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। বিভাগীয় সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের জন্য ৪০ দশমিক ৫৪ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৮ একর, সড়কের জন্য ২০১ দশমিক ৫৮ একর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ দশমিক ৫৪ একর, স্বাস্থ্য খাতের জন্য ৫ দশমিক ৮ একর, বাঁধের জন্য ৪৮ দশমিক ৮০ একর, জাদুঘরের জন্য ৩ দশমিক ১৫ একর এবং নভোথিয়েটারের জন্য ১১ দশমিক ৭৮ একর জমি নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।

এসব স্থাপনা করতে কোনো পুকুর-জলাশয় ভরাট করা হবে না। কৃত্রিম জলাশয় তৈরির জন্য রাখা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৫০ একর জমি। অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২৫ একর জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করা হবে। অধিগ্রহণে উচ্ছেদ হবে ৩৪২টি পরিবার।

দুশ্চিন্তা কাটেনি

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০১৬ সাল থেকে চর এলাকায় সরকারি নির্দেশনায় জমি কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পারিবারিক নানা কারণে প্রয়োজন হলেও জমি বিক্রি করতে পারছেন না মানুষ। দ্রুত অধিগ্রহণ এলাকা চিহ্নিত করে বাকি জমি বেচাকেনার অনুমতি দেওয়ার দাবি তাঁদের।

বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, ৯৪৫ একর জমি অধিগ্রহণ করলে চরবাসী আর কোনো বাধা দেবেন না। তবে কাছারিঘাট হয়ে চর এলাকায় যাওয়ার একমাত্র সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করতে হবে। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির বাইরে গ্রামবাসীর বাকি জমির ওপর থেকে কেনাবেচার নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিতে হবে দ্রুত।

ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছে ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন কমিটি। কমিটির সদস্যরা বলছেন, ছয় বছরেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হওয়া দুঃখজনক। ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ময়মনসিংহ শহর খুব ঘিঞ্জি। নতুন শহর যেন পরিকল্পিত হয়, নগরায়ণের সব শর্ত মেনে যেন করা হয়। সেখানে পর্যাপ্ত মাঠ, জলাশয় ও সবুজ থাকতে হবে। বড় বড় ভবন করা হলে নতুন শহর আবার গলার কাঁটা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন