বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবার সরকার লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সেই দামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। গত বছর একই চামড়ার দাম ২৮ থেকে ৩২ টাকা ছিল। এ ছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া নিয়ে জেলা শহরের পুরাতন কাচারি প্রাঙ্গণ, মঠের গোড়া, টিএরোড, জেলরোড, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় জড়ো করেন। সাধারণত ঈদের দিন বিকেলেই এসব জায়গায় তাঁরা চামড়া জড়ো করেন। এসব জায়গায় চামড়া বাজার জমে। তবে জেলার সবচেয়ে বড় চামড়ার বাজার বসে সরাইল উপজেলার বৈকাল বাজারে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন বড় চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, বিগত বছরগুলোতে শহর এবং শহরের বাইরের অনেক এলাকা থেকে অসংখ্য ব্যবসায়ী জেলায় চামড়া কিনতে আসতেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাও অনেক কম। কয়েক বছর ধরে টানা লোকসান হওয়ায় এবং প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় এবার অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী মাঠপর্যায়ে সেভাবে চামড়া সংগ্রহ করেননি। তবে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে চামড়া নিয়ে আসছেন পাইকারদের কাছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চামড়া বলতে গেলে পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরে থাক, পরিবহন ব্যয়ও ওঠে না। এরপরও আবার বাকিতে বিক্রি করতে হয়। ফলে অনেকেই এবার চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাননি। বেশির ভাগ চামড়াই এলাকাভিত্তিক বিনা মূল্যে সংগ্রহ করছেন। তাঁরা বলেন, একটি গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না। আর ছাগলের চামড়া তো বিনা মূল্যেও কেউ নিচ্ছে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজীপাড়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী সেন্টু মিয়া বলেন, ‘৩০ টাকা ফুট হিসেবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরুর ২২টি চামড়া কিনেছি।’

চামড়া ব্যবসায়ী সুমন মিয়া, শরিফ মিয়া শাকিল মিয়া ও মোহাম্মদ কায়েস বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ব্যবসা। এ বছর টাকার সংকট ছিল। ধার করা সামান্য কিছু টাকা নিয়ে চামড়া ব্যবসায় নেমেছি। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ধরে গরুর চামড়া কিনে ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এর মধ্যে পরিবহন খরচ তো আছেই।’

জেলা শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ীরা বলেন, একটি চামড়া ৩০০ টাকায় কিনলে লবণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে আরও ৩০০ টাকা খরচ হয়। এরপর পরিবহন খরচ দিয়ে মোকামে পাঠাতে আরও টাকা খরচ হয়। এরপর পরিবহন খরচ দিয়ে ট্যানারিতে পাঠিয়ে সে অনুযায়ী মূল্য পাব, এমন নিশ্চয়তা নেই।

জেলার কাজীপাড়া এলাকার মজহারুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গবাদিপশু কোরবানির পর বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু চামড়া কিনতে কেউ আসেনি। কোনো উপায় না পেয়ে চামড়া মসজিদকে দিয়ে দিয়েছি।’

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গরুর চামড়া আকারভেদে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং মহিষের চামড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। খুব বেশি লাভ হয়নি। শুধু পুঁজি তুলতে পেরেছি।’

চামড়ার বাজার মন্দা হওয়ার কারণ সম্পর্কে জেলার কয়েকজন পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘ট্যানারিমালিকেরা যদি পাওনা টাকা আগেই পরিশোধ করতেন, তাহলে আমাদের এই দৈন্যদশা হতো না। দেশের চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন