বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হোসাইন ও রোমান দুজন একই সঙ্গে চলাফেরা করতেন। আজ রাত পৌনে আটটার দিকে কাজীপাড়ার ধোপাবাড়ী মোড়ে দুখু মিয়ার চায়ের দোকানে চা খেতে যান রোমান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে দোকানে ঢুকে রোমানকে ছুরিকাঘাত করেন হোসাইন। মুহূর্তের মধ্যে হোসাইন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। চা–দোকানি দুখু মিয়া ধাওয়া করেও হোসেনকে ধরতে পারেননি।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত রোমানকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আরিফুজ্জামান তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রোমান জেলা শহরের কাউতলী বাজারে জাবেদ মিয়ার মাংস বিক্রির দোকানে কসাইয়ের কাজ করতেন। আর অভিযুক্ত হোসাইন শুধু বিয়েবাড়িতে কসাইয়ের কাজ করেন।

চিকিৎসক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে আনার পর ওই রোগীর ইসিজি করা হয়। তখন তাঁকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই রোগী মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চা–দোকানি দুখু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত আটটার দিকে রোমান দোকানে এসে এক কাপ চা দিতে বলেন। চা দিতে না দিতেই গরু জবাইয়ের বড় একটি ছুরি নিয়ে হোসাইন দোকানে ঢুকে রোমানকে বুকে আঘাত করেন। হাতে ছুরি থাকায় কেউ ভয়ে এগিয়ে যাননি। তবে আমি সাহস করে হোসাইনকে ধাওয়া করে অনেক দূর এগিয়ে যাই। কিন্তু হোসাইন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।’

নিহত রোমানের মা আবেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কাছে ৪০০ টাকা পেত হোসাইন। সন্ধ্যায় ছেলে এসে আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। কিন্তু হাতে টাকা না থাকায় তাকে ধোপাবাড়ীর মোড়ে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। মাত্র ৪০০ টাকার জন্য আমার ছেলেকে মেরে ফেলল। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

সদর থানার ওসি মো. ইমরানুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় এক তরুণ আরেক তরুণের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছেন। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ ছিলেন। তাঁরাও এমন কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ওই তরুণকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন