default-image

গণহত্যা দিবস আজ ২৫ মার্চ। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে দেশের অন্য জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অনেক গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জেলায় সরকারি হিসাবে ৩৫টি বধ্যভূমি ও ১৮০টি গণকবর রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও অধিকাংশ বধ্যভূমি ও গণকবর এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযুদ্ধের কয়েকজন গবেষক ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ পর্যন্ত ৩৫টি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। আর ১৮০টি গণকবর রয়েছে। জেলায় ৩৪৩টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে একজন গবেষক বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বধ্যভূমির সংখ্যা ৪২টি।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও গণহত্যা হয়েছে, এমন অনেক বধ্যভূমি ও গণকবর অবহেলা-অযত্নেœপড়ে রয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ করা উচিত।

জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, ‘জেলায় ২৩৩ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি স্মৃতিচিহ্ন সংক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। বাকিগুলো সংরক্ষণ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে। ভারত সীমান্তঘেঁষা এ জেলার বিজয়নগর, আখাউড়া ও কসবা উপজেলার ৭৩ কিলোমিটার এলাকায় অনেক সম্মুখযুদ্ধ হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, কবি ও লেখক জয়দুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ মার্চ সারা দেশে গণত্যা শুরু হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দখলে নেওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে গণহতা ও নির্যাতন শুরু হয়। আর জেলার আশুগঞ্জ ওয়াপদা ও কসবা, তিতাস ও মেঘনা নদী এবং কুরুলিয়া খাল, শাহবাজপুর ও মেঘনা সেতুতে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা হয়েছে। অনেক বধ্যভূমিতে ফসলি জমি, আবাসিক ভবন গড়ে উঠেছে।

জয়দুল হোসেন আরও বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসক সরাইলের বিটঘর বধ্যভূমি ও শহরের পৈরতলা রেলগেট এলাকার গণকবর, জেলা শহরের ওয়াপদা এলাকার পাকিস্তানি হানাদারদের বাংকার ও নির্যাতনকেন্দ্র সংস্কার করেছেন। আর নবীনগরের উপজেলার বড়াইলের খরঘর বধ্যভূমি পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মিজানুর রহমান সংস্কার করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন