ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইসোলেশন থেকে কোভিড রোগীর পলায়ন

বিজ্ঞাপন
default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের আইসোলেশন থেকে কোভিড–১৯–এ আক্রান্ত এক রোগী পালিয়ে গেছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। আজ সোমবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ওই রোগীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পালিয়ে যাওয়া ওই কোভিড রোগীর নাম কেফায়েত উল্লাহ (৩৮)। তিনি সরাইল উপজেলার টিগর গ্রামের মৃত আনোয়ারুজ্জামানের ছেলে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের চত্বরে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার আইসোলেশন কেন্দ্র চালু করা হয়। গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত এখানে ২২ জন কোভিড রোগী ছিলেন। রোববার বিকেলে এখানকার সাতজনকে সুস্থতার সনদ দেওয়া হয়। বিকেলে ওই সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। ওই সাতজন হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার কোনো এক সময় কেফায়েত উল্লাহ পালিয়ে যান। সন্ধ্যায় বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। বর্তমানে এই আইসোলেশনে ১৪ জন চিকিৎসাধীন।

গত ১১ এপ্রিল থেকে জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ২০ শয্যার আইসোলেশনে করোনার চিকিৎসা শুরু হয়। ৩১ মে পর্যন্ত সেখানে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ১ জুন বক্ষব্যাধি হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা সব রোগীকে স্থানান্তর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের আইসোলেশনে নেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন প্রথম আলাকে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ওই রোগীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই রোগী তাঁর বাড়িতেও নেই বলে শুনেছেন।

আইসোলেশনের প্রধান সমন্বয়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকৎসা কর্মকর্তা একরামুল রেজা প্রথম আলোকে বলেন, আইসোলেশন সেন্টারের নিচে দুজন লোক দায়িত্ব পালন করেন। রোববার সাতজন ছাড়পত্র নিয়ে যাওয়ার সময় দায়িত্বরত ব্যক্তিরা তাঁদের বিভিন্ন মালামাল বহনে সহযোগিতা করছিলেন। এই ফাঁকে সুযোগ বুঝে ওই রোগী পালিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, ওই রোগী প্রথম দিকেই আইসোলেশনে আসতে চাইছিলেন না। অনেক কষ্টে তাঁকে আইসোলেশনে আনা হয়েছিল।

সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল সামাদ বলেন, করোনার ওই রোগী খুঁজে বের করতে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আর হাসপাতালে পুলিশের প্রহরা বাড়ানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোমবার বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫১ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৫ জন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন