default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা টিকার নিবন্ধনের জন্য সরকারিভাবে এখনো প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। সাধারণ মানুষ করোনার টিকা এবং টিকার জন্য কীভাবে নিবন্ধন করতে হবে, তা জানেন না। এ কারণে টিকাগ্রহীতাদের নিবন্ধনও কম হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৯ জানুয়ারি সকালে জেলায় এক লাখ আট হাজার করোনা টিকার ডোজ পৌঁছেছে। সেগুলো জেলা শহরের মেড্ডা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই ভান্ডারভবনের হিমাগার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। জেলায় করোনার টিকা দেওয়ার জন্য ২৮৬ জন টিকাদান কর্মী ও ৫৭২ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। জেলা পর্যায়ে করোনার টিকার প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে টিকাদানকারীদের প্রশিক্ষণ চলমান। গত বুধবার বিকেলের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনার টিকাদানে সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবাীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। আগামী শনিবারের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আটটি ও জেলার আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৪টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। জেলার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেহেতু কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চলে না, সেহেতু টিকাদান কেন্দ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি করোনার টিকার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কেন্দ্র থাকবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে, জেলায় করোনাসহ অন্যান্য টিকার জন্য জেএমআই কোম্পানির সাড়ে চার লাখ টিকার সিরিঞ্জের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত কোনো সিরিঞ্জ পৌঁছায়নি। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দেড় লাখের মতো সিরিঞ্জ মজুত রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের নার্স, চিকিৎসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক, আধা সামরিক বাহিনী, সম্মুখসারির গণমাধ্যমের কর্মী, জনপ্রতিনিধি, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, ব্যাংক কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অগ্রাধিকার পাবেন।

জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক আবদুন নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার টিকার বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি। টিকার বিষয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। বেশি করে প্রচার চালালে এই ভীতি দূর হবে। আমরা প্রাথমিকভাবে টিকা ও নিবন্ধন সম্পর্কে পত্রিকায় পড়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিলেন্স ও ইম্যুনাইজেশন কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র দাস বলেন, করোনার টিকার প্রশাসনিক, নিবন্ধনকারীদের ও টিকাকেন্দ্রের তালিকা রয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনিক তালিকার হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরো তালিকা পাওয়া যাবে। আর নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিলেন্স ও ইম্যুনাইজেশন কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র দাস আরও বলেন, ‘সাধারণত টিকার বিষয়ে মাইকিং করা হয়। যেদিন যে এলাকায় টিকা দেওয়া হবে, সেই এলাকার মসজিদে টিকার বিষয়ে মাইকিং করা হবে। জাতীয়ভাবে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে। আর জেলা পর্যায়ে প্রচারণার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জন্য আমরা ব্যানার তৈরি করছি। শুক্রবার হাসপাতালে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। শিগগিরই নিবন্ধন ও টিকার প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, সদর হাসপাতালের ২০ সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ২ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) টিকা দেওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক রায়হান উদ্দিন ভূঁইয়া ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতি টিকাকেন্দ্রে চারজন করে স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রগুলোতে করোনার টিকার বিষয়ে বলা হচ্ছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। প্রচারণার অংশ হিসেবে ফেসবুকে আমরা নিবন্ধনের জন্য যাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন, তাঁদের তালিকা দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন