default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমেছে, বেড়েছে সুস্থতার হার। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৩ জনের বেশি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। সুস্থতার হার প্রায় ৮২ শতাংশ। গত আগস্ট মাসে গড়ে প্রায় ১২ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। তবে সংক্রমণের হার কমার পাশাপাশি সুস্থতার সংখ্যা বাড়লেও ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র এসব কথা জানিয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গেল আগস্ট মাসে জেলায় ৩৮০ জন করোনায় আক্রান্ত হন। সংক্রমণের হার ছিল ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ২ হাজার ২৯৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় ৮৩৪ জন এবং যার মধ্যে ৬৫৫ জন সুস্থ হয়েছেন। জেলায় মোট ১ হাজার ৮৮২ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার হার ৮১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জেলায় বর্তমানে ৩৫৯ জন বাড়িতে আইসোলেশনে, ৮ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের আইসোলেশন কেন্দ্রে, ৫ জন অন্য জেলায় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন।

বিজ্ঞাপন

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, জেলায় এপ্রিল মাসে ৪৩ জন, মে মাসে ৮৮, জুনে ৮৩৭, জুলাইয়ে ৯৫১ ও ২৯ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ৩৪৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪১ জন। এর মধ্যে জুলাই মাসে ২০ জন, জুনে ১৩, এপ্রিলে ২ ও বাকি ৬ জন আগস্টে মারা গেছেন। জুন মাসে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা ও নবীনগর পৌরসভার ১১টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, চারটি কারণে জেলায় করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে ঈদ উপলক্ষে মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা, মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা ও অসচেতনতা।

জেলায় কোভিড-১৯ রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৯৯ জন ছাড়িয়েছে। জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ১০ এপ্রিল। ওই সময় থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৫২ দিনে কোভিডে আক্রান্ত হন ১৩১ জন। সংক্রমণের হার ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর জুন মাসের ৩০ দিনে সংক্রমিত হয়েছেন ৮৩৭ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন ২৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন, যা মোট সংক্রমণের ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। জুলাই মাসের প্রথম ১৭ দিনে জেলায় আক্রান্ত হন ৭৩৪ জন। এরপর পুরো মাসে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৫১, যা মোট সংক্রমণের ৪১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আগস্টে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮০ জনের বেশি। সংক্রমণের হার ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ৯২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফল পাওয়া গেছে ১৬ হাজার ৬৭২ জনের। জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় ৪১ জন মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগে সংক্রমণের হার বেশি ছিল। জুন-জুলাই মাসে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি ছিল। তবে সংক্রমণের হার আরও কম না হওয়া পর্যন্ত কোনো স্বস্তি নেই। তবে বড় স্বস্তি হলো, করোনার আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন কারও মৃত্যু হয়নি। জেলা এখনো ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। অফিস–আদালত খুলে গেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। এটা একটা ভয়ের কারণ। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন