ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার সংক্রমণ চার হাজার ছাড়াল

করোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা সংক্রমণের পর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল। এ পর্যন্ত জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৫৯ জন। আজ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় গত বছরের ৯ মাসে ২ হাজার ৭৩৫ জন এবং চলতি বছরের ১৮ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ২৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। প্রথম ৯ মাসে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৬৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং পরের ৬ মাসে ৩১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার সংক্রমণের হার ছিল ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে নতুন শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১০। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৯১ জন সুস্থ ও ৫৯ জন মারা গেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ২৭০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন করে করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২০ জন। এর মধ্যে আটজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে আখাউড়ায় চারজন, আশুগঞ্জে পাঁচজন এবং সরাইল, কসবা ও নবীনগর উপজেলায় একজন করে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, জেলায় গত বছরের এপ্রিলে ৪৩, মেতে ৮৮, জুনে ৮৩৭, জুলাইয়ে ৯৫১, আগস্টে ৩৮০, সেপ্টেম্বরে ১৫৪, অক্টোবরে ৫৬, নভেম্বরে ১৩৪ ও ডিসেম্বর মাসে ১০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫৭, ফেব্রুয়ারিতে ৩৬, মার্চে ১১৫, এপ্রিলে ৬১৯, মেতে ২৯৭ ও সর্বশেষ ১৮ জুন পর্যন্ত ১৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের ৯ মাসে করোনা শনাক্তের হার ৬৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং চলতি বছরের ১৮ জুন পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

করোনায় আক্রান্তের এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলায় করোনার সংক্রমণ দ্রুতগতিতে বেড়েছে। কিন্তু গত বছরের পরের চার মাসে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জেলায় করোনার সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী থেকে নিম্নমুখী হয়ে আবার ঊর্ধ্বমুখী।

জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, ‘জেলায় তুলনামূলকভাবে করোনা শনাক্তের হার কম। সংক্রমণ কমিয়ে আনতে বর্তমানে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন। শুরুর দিকে জেলায় করোনা শনাক্তের হার বেশি ছিল। সীমান্তবর্তী জেলা হলেও করোনা শনাক্তের হার অন্যান্য জেলার তুলনায় কম। এটা আমাদের জন্য একটা আশার সংবাদ।’