পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও সুনামগঞ্জের উজান থেকে আসা পানিতে নাসিরনগর উপজেলার হাওর এলাকার কৃষকদের ধানের জমি তলিয়ে যায়। একইভাবে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের কৃষকদের অনেক ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের আশুরাইল গ্রামের কৃষক জালাল মিয়া হাওর থেকে ধান কেটে নৌকায় করে উপজেলার অনিতপুর চরে নিয়ে যান। এ সময় চরে একই ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামের জুনাইদ মিয়া একটি ট্রাক্টর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জালাল তাঁর কাছে এগিয়ে যান। ধান ট্রাক্টরে করে বাড়ি নিয়ে যেতে জুনাইদের সঙ্গে কথা বলেন জালাল। ৫০০ টাকার বিনিময়ে ধান বহনে রাজি হন জুনাইদ। এরপর ট্রাক্টরে ধানের আঁটি তোলা শুরু করেন জালাল। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরে জুনাইদ অতিরিক্ত ধানের আঁটি ট্রাক্টরে বোঝাই করা যাবে না বলে জালালকে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে জুনাইদ আহত হন।

এলাকার বাসিন্দারা আরও জানান, দুজনের হাতাহাতির বিষয়টি দুই গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে ওই চরের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে শ্রীঘর গ্রামের নায়েব উল্লাহ নিহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে প্রথমে নাসিরনগর থানা-পুলিশ ও পরে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন মারজিয়া বেগম (৭), সালমা বেগম (৫০), আবদুল করিম (৪৫), মহসিন মিয়া (১৫), জুনাইদ (১১), এনামুল হক (৪০), মিজান মিয়া (৩০), আফজাল মিয়া (২০), দিপু মিয়া (২০), দানা মিয়া (২৮), মো. আরমান (২২), মহসিন মিয়া (১৯) ও সফিকুল ইসলাম (২৮)। তাঁরা নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, হাওর থেকে কেটে আনা ধান চর থেকে ট্রাক্টরে তোলা নিয়ে কৃষক জালাল ও ট্রাক্টরচালক জুনাইদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। জালাল আরও বেশি ধানের আঁটি ট্রাক্টরে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চালক জুনাইদ অতিরিক্ত ধানের আঁটি ট্রাক্টরে বোঝাই করতে রাজি হননি। একপর্যায়ে দুজনের পক্ষ নিয়ে শ্রীঘর ও আশুরাইল গ্রামের লোকজন চরের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

হাবিবুল্লাহ সরকার আরও বলেন, সংঘর্ষে শ্রীঘর গ্রামের নায়েব উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। তাঁর লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন