২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যা আছে ২০টি। রোববার বিকেল পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে ১২৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। ২০ মার্চ ৮০ জন, ২১ মার্চ ৭২ জন, ২২ মার্চ ৭৮ জন, ২৩ মার্চ ৮২ জন, ২৪ মার্চ ৭০ জন, ২৫ মার্চ ৮৬ জন, ২৬ মার্চ ১১৩ জন ও রোববার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ১২৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই নারী। গত আট দিনে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও এর মেঝেতে ৭০৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শয্যা খালি না থাকায় রোগীদের অনেককেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সঙ্গে স্বজনেরাও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন। বিকেলে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীরা গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা তানিয়া বেগম বলেন, এক বছরের শিশুকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রচণ্ড গরমে রোগীরা অস্থির হয়ে যান।

তাকবীর নামের এক শিশুকে নিয়ে এসেছিলেন তার মা সুমা বেগম। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার আট মাস বয়সী শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। নিয়মিত চিকিৎসা পেলেও হাসপাতালের পরিবেশ খুবই বাজে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভেতরে যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করেন। সেখানে পানি দিয়ে ধোয়া হয় বলে সারাক্ষণ মেঝে স্যাঁতসেঁতে থাকে। এ কারণে সন্তানকে নিয়ে ওয়ার্ডের বাইরে অবস্থান করছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। তাই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। রোগীদের খাবার স্যালাইন, আইভি স্যালাইনসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। শয্যা খালি না থাকায় অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহীদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। তাই রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ে। কিছুদিন আগেও ডায়রিয়ার রোগীর বেশি ছিল। গরম থেকেই ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কারণ, গরম থেকে তৃষ্ণার কারণে মানুষ বেশি পানি পান করে। পানির উৎস ভালো না থাকলে জীবাণু থেকেও ডায়রিয়া হতে পারে। আবার অসচেতনতাও এর জন্য দায়ী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন