ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌপথে শৃঙ্খলা আনতে প্রশাসনের তৎপরতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবির ঘটনার পর নৌযানে তদারকি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা। সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের তিতাস নদের আনন্দবাজার ঘাটে
ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাডুবিতে ২৩ জনের মৃত্যুর পর নৌযানে তদারকি শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা প্রশাসন। গত দুই দিনে নিবন্ধনে আওতায় আনতে বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ঘাট ও জেলা শহরের আনন্দবাজার ঘাটে ৫১টি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে তালিকাভুক্ত করেছে বিআইডব্লিউটিএ। অন্যদিকে সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহননসহ নানা কারণে ১০টি নৌযানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিতাস নদের শহরের আনন্দবাজার ঘাট, বিজয়নগর উপজেলার টানমনিপুর, মনিপুর ও চম্পকনগর ঘাটে অভিযান পরিচালনা করেন বিজয়নগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাবেয়া আফছার ও জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল বাকী।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল বাকী প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে ১০টি নৌকাকে ২ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নৌযানের সার্ভে সনদ, নিবন্ধন, ফিটনেস, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সরকারি আদেশ অমান্য করা, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকা ইত্যাদি কারণে এসব জরিমানা করা হয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নৌবন্দরের পরিদর্শক জসিম উদ্দিন তিতাস নদের আনন্দবাজার সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন। রবি ও সোমবার দুই দিনে চম্পকনগর-আনন্দবাজার নৌপথে চলাচলকারী নৌকাগুলোর তালিকা করা হয়েছে। এ সময় নৌকার মালিক, মাঝি ও সহযোগীদের নৌযানে নির্ধারিত ২৫ জন যাত্রী পরিবহন, নৌকায় লাইফ জ্যাকেট, বয়ার মতো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আনন্দবাজার ঘাটে অবস্থান করে দেখা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক জসিম উদ্দিন নৌকার মালিক, মাঝি ও সহযোগীদের ডেকে একটি করে ফরম পূরণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেন। অপর দিকে নৌযানগুলো সরকারি নির্দেশনা মানছে কি না, এসব বিষয়ে তদারকি করতে উপস্থিত ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাবেয়া আফছার ও জেলা প্রশাসনের সহাকরী কমিশনার আবদুল্লাহ আল বাকী।

ফারুক নৌপরিবহনের মালিক ফারুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, নৌকায় ২৫ জন করে যাত্রী তোলার জন্য বলেছে। চর ইসলামপুর থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত আসা যাওয়ায় পাঁচ লিটার তেল লাগে। এতে ৩৯০ টাকা খরচ হয়। যদি ২৫ জন করে যাত্রী নিয়ে যায়, তাহলে মাথাপিছু ২০ টাকা ভাড়া হিসেবে ৫০০ টাকা আসবে। তাঁর নৌকায় ২০০ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা আছে। এমন হলে নৌকা বিক্রি করতে হবে। নৌকায় বয়া, লাইফ জ্যাকেট আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লাইফ জেকেট নাই। তবে বয়া কী জানি না, চিনি না। এই প্রথম বয়ার নাম শুনলাম।’

আরও পড়ুন

নুরুল আমিন নৌপরিবহনের মালিক নুরুল আমিনও বয়া কী, চেনেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে নিয়ম দিছে, তাতে তো কোনো রোজগারই হবে না। তেল খরচ, মাঝি ও সহযোগীর খরচ দিয়ে হাতে তেমন টাকাই থাকবে না।’

বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানান, বয়া হচ্ছে গোলাকার ভাসমান একধরনের বস্তু। একধরনের বয়া নৌ চলাচলে নদী–সমুদ্রপথে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার হয়। আরেক ধরনের বয়া নৌযানের সঙ্গে থাকে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে এসব বয়ায় একসঙ্গে চার থেকে পাঁচজন উঠে ভেসে থাকতে পারবেন।

বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের তথ্য বিবরণীর একটি ফরমে নৌকার মালিক, মাঝি ও সহযোগীর তথ্য নিয়ে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। নৌপথে শৃঙ্খলা আনতে নৌকাগুলোর তালিকা করছেন তাঁরা। নিবন্ধনের আওতায় আনতে ৫১টি নৌকাকে তালিকাভুক্ত করেছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার তিতাস নদের লইস্কা বিলে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌকাডুবিতে ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাল্কহেডের মালিক, মাঝি, সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন