default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নয়টি কেন্দ্রে একসঙ্গে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। আগামীকাল রোববার দুপুর ১২টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনার টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

আজ শনিবার বেলা একটার দিকে জেলার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ইপিআই ভান্ডার ভবনের হিমাগার থেকে ৫৪ হাজার ১০০ ডোজ করোনার টিকা নয়টি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুর পর্যন্ত নিবন্ধনকারীরা টিকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো খুদে বার্তা পাননি।

তবে করোনার টিকা এবং টিকার নিবন্ধনের জন্য জেলায় তেমন প্রচারণা নেই। আজ পর্যন্ত জেলার কোথাও টিকার নিবন্ধনের বিষয়ে মাইকিং হয়নি। জেলার কতজন টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন, সিভিল সার্জন কার্যালয় সেই সংখ্যা ও তালিকা আজ দুপুর পর্যন্ত পায়নি। কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচপিদের (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। তবে যাঁরা নিজ উদ্যোগে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক ও ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রে যাচ্ছেন, তাঁরা নিবন্ধন করতে পারছেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি সকালে জেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ডোজ করোনার টিকা পৌঁছায়। টিকার জন্য জেএমআই কোম্পানির ১ লাখ ৫৬ হাজার সিরিঞ্জ এসেছে। সেগুলো জেলা শহরের মেড্ডা বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ইপিআই ভান্ডার ভবনের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। জেলায় করোনার টিকা দিতে ২৮৬ জন টিকাদানকর্মী ও ৫৭২ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। জেলায় করোনার টিকার জন্য প্রশিক্ষক, টিকাদানকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। জেলা থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৬৩১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা পাঠানো হয়েছে। জেলায় করোনার টিকা দিতে ১৪৩টি কেন্দ্রের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আটটি ও জেলার আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৪টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন টিকাদানকর্মী এবং চারজন স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও স্যাকমো পদের নিযুক্ত ব্যক্তিরা করোনার টিকাদানকর্মী হিসেবে কাজ করবেন।

আজ বেলা একটার দিকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ইপিআই কেন্দ্র থেকে সদর উপজেলায় ১০ হাজার ডোজ ও ২৮ হাজার ৮০০ সিরিঞ্জ, নাসিরনগরে ৫ হাজার ৯০০ ডোজ ও ১৯ হাজার ২০০ সিরিঞ্জ, সরাইলে ৬ হাজার ডোজ ও ১৪ হাজার ৪০০ সিরিঞ্জ, বিজয়নগরে ৪ হাজার ৯০০ ডোজ ও ১৪ হাজার ৪০০ সিরিঞ্জ, আশুগঞ্জে ৩ হাজার ৪০০ ডোজ ও ৭ হাজার ২০০ সিরিঞ্জ, আখাউড়ায় ২ হাজার ৮০০ ডোজ ও ৭ হাজার ২০০ সিরিঞ্জ, কসবায় ৬ হাজার ডোজ ও ১৬ হাজার ৮০০ সিরিঞ্জ, নবীনগরে ৯ হাজার ৪০০ ডোজ ও ২৮ হাজার ৮০০ সিরিঞ্জ এবং বাঞ্ছারামপুরে ৫ হাজার ৭০০ ডোজ ও ১৯ হাজার ২০০ সিরিঞ্জ পাঠানো হয়। আজ দুপুরে এসব বিতরণের সময় সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের নার্স, চিকিৎসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক, আধা সামরিক বাহিনী, সম্মুখসারির গণমাধ্যমের কর্মী, জনপ্রতিনিধি, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, ব্যাংক কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অগ্রাধিকার পাবেন।
টিকার জন্য নিবন্ধন করা শিপ্রা বিশ্বাস ও চিকিৎসক ফায়েজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিবন্ধনের সময় কেন্দ্র বাছাই করে দিয়েছেন। তবে কখন টিকা দিতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো বার্তা মুঠোফোনে আসেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাউ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সুরক্ষা: কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সাইট বা (WWW.SUROKKHA.GOV.BD)–তে গিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তির তালিকা অনুযায়ী যেকেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে অনলাইনের নিবন্ধন কার্ডের মুদ্রণ অনুলিপি (প্রিন্ট কপি) সংগ্রহ করতে হবে। নিবন্ধন কার্ড ছাড়া কেউ করোনার টিকা পাবেন না। তাই সঙ্গে অবশ্যই কার্ড নিয়ে যেতে হবে। যাঁদের বয়স ৫৫ বছর বা এর বেশি, তাঁদের টিকাদানের দিন কেন্দ্রে নিবন্ধনের কোনো সুযোগ আপাতত থাকছে না। কারণ, প্রতিটি কেন্দ্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ করোনার টিকার ডোজ রাখা হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালসহ নয়টি কেন্দ্রে টিকার কার্যক্রম শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন