default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার টিকার ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল পৌঁছেছে। এসব ভায়ালে ১ লাখ ৮ হাজার করোনার ডোজ রয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে করোনার টিকার এসব ডোজ জেলায় পৌঁছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা গেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে টিকা দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সম্মুখসারির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দেওয়ার মাধ্যমে টিকাদান শুরু হবে। আর ইতিমধ্যে অনলাইনে টিকা গ্রহণকারীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাখা নার্স-চিকিৎসকসহ অন্যান্য শ্রেণির প্রথম ধাপে কতজন করে করোনার টিকা পাবেন, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় কোন শ্রেণির মানুষ কী পরিমাণ টিকা পাবেন, তার নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি। নির্দেশনা অনুসারেই টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে জেলায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু কথা বলা আছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনার টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের নার্স-চিকিৎসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসরকারি ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা-বীরাঙ্গনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক, আধা-সামরিক বাহিনী, সম্মুখসারির গণমাধ্যমের কর্মী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, ব্যাংক কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় মারা গেছেন ৪৫ জন। শুক্রবার জেলায় ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল টিকা পাঠানো হয়। প্রতিটি ভায়ালে ১০টি করে ডোজ রয়েছে। ১০ হাজার ৮০০ ভায়ালে ১ লাখ ৮ হাজার ডোজ রয়েছে। সেগুলো জেলা শহরের মেড্ডা ইপিআই কার্যক্রমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগারে (কোল্ড স্টোরেজে) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে টিকা প্রদানের জন্য জেলার চিকিৎসক, টিকাদানকর্মী নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলায় সরকারিভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। টিকাদানের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে আটটি দল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দুটি করে দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে দুজন করে টিকাদানকর্মী (নার্স) ও চারজন করে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় ১০ হাজার ৮০০ ভায়াল পাঠানো হয়েছে। একটি ভায়ালে ১০টি ডোজ থাকে। সে হিসেবে জেলায় ১ লাখ ৮ হাজার করোনার ডোজ এসেছে। একটি ভায়াল পাঁচজনকে দেওয়া যাবে। টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। অনলাইন নিবন্ধন লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুও হয়ে গেছে। নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর মুঠোফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাঠিয়ে টিকা গ্রহণের সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। এখনো টিকা প্রদানের সময় ও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্মুখসারির যোদ্ধাদের করোনার টিকা প্রদানের মাধ্যমে টিকাদান কর্মক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছে। তাই জেলায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন