default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার সময় গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডে (বিজিএফসিএল) ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শামীম মিয়া (২৮) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের চান্দিরা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শামীম সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের চান্দিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৯ মামলায় ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিরাসার এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডে হেফাজতের হরতালের দিন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেখানে হামলার বিষয়ে শামীমের উসকানি ছিল। সে–ই সেখানকার হামলার ঘটনার মূল হোতা।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল পালনের সময় সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিজিএফসিএলের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১০-১২টি গাড়ি ভাঙচুর ও সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ হামলার ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা করেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় ৪৮টি মামলা হয়েছে। ৪৮টি মধ্যে সদর মডেল থানায় ৪৩টি, আশুগঞ্জ থানায় ৩টি ও সরাইল থানায় ২টি মামলা করা হয়। তা ছাড়া এই ৪৮টির বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়। এসব মামলায় এজাহারনামীয় ২৮৮ জন ছাড়া বাকি সবাই অজ্ঞাতনামা আসামি। ৪৯টি মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি আসামি করা হয়। এখন পর্যন্ত মোট ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সবাই হেফাজতের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সদর মডেল থানায় ৬৭ জন, আশুগঞ্জ থানায় ১২ জন এবং সরাইল থানায় চারজন আছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে জেলা শহরসহ সদর উপজেলার সুহিলপুর ও বুধল ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাদাপোশাকে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। গ্রামের অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। বুধল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হক বলেন, ‘পুলিশ গ্রামে সাদাপোশাকে অভিযান চালাচ্ছে। এই পর্যন্ত চারজনকে বুধল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকের মধ্যেই রয়েছে আতঙ্ক। অনেকে বাড়িতে রাত্রিযাপন করছেন না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র দেখে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন